বাংলাদেশ

২৯ দিনে ৩ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয়, রিজার্ভ ছাড়াল ৩৩ বিলিয়ন

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৬ ০৪:৪০

চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২৯ দিনে দেশে এসেছে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়। এতে ডলার সংকট কিছুটা কমেছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক অগ্রগতি

এর আগে গত ৯ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের প্রায় ১৬১ কোটি ডলারের বিল পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কেনা শুরু করলে ধীরে ধীরে রিজার্ভ বাড়তে থাকে।

গত ১১ ডিসেম্বর গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে এবং বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ পাওয়া যায়, সেটিকেই ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ বলা হয়। যদিও এ তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। মাসে গড়ে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরলে এ রিজার্ভ দিয়ে চার মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকা প্রয়োজন।

অতীতের রিজার্ভ পরিস্থিতি

এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দেশের রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। পরে ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

তবে পরবর্তী সময়ে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং চলতি হিসাব ঘাটতির কারণে রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করলে তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

এ অবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ২০২২ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার আবেদন করে।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন