বিশ্ব

ট্রাম্পের নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ৭ দেশ

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:১৪

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নতুন করে আরও ৭ টি দেশের নাম যুক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তালিকায় সিরিয়া ও ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ৭টি দেশের নাম যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এসব দেশ ও ভূখণ্ডের নাগরিকেরা এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজ জানায়, ট্রাম্প একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার হুমকি থেকে দেশকে রক্ষার জন্য যেসব দেশের নাগরিকদের যাচাই–বাছাই, স্ক্রিনিং এবং তথ্য আদান–প্রদানে প্রমাণিত, ধারাবাহিক ও গুরুতর ঘাটতি রয়েছে— সেসব দেশের ওপর প্রবেশ–নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত ও জোরদার করা হয়েছে।

মঙ্গলবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যু করা ভ্রমণ নথির ধারকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লাওস ও সিয়েরা লিওন-এর ওপরও পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যেগুলো আগে কেবল আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।

হোয়াইট হাউজ জানায়, এই সম্প্রসারিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

এই সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প নভেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ঐতিহাসিক আলোচনার পর সিরিয়াকে সফল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবকিছু করার অঙ্গীকার করেছিলেন। সাবেক আল-কায়েদা কমান্ডার আল-শারা কিছুদিন আগে ওয়াশিংটনে বিদেশি সন্ত্রাসী হিসেবে নিষিদ্ধ ছিলেন।

ট্রাম্প আল-শারাকে সমর্থন দিয়েছেন। বিদ্রোহী থেকে রাষ্ট্রনেতায় পরিণত হওয়া আল-শারা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করার পর বিশ্বজুড়ে সফর করে নিজেকে মধ্যপন্থি নেতা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। কারণ তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটাতে চান।

তবে শনিবার সিরিয়ায় সন্দেহভাজন আইএস হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক বেসামরিক দোভাষী নিহত হন। মার্কিন ও সিরীয় বাহিনীর একটি বহরে আক্রমণ করা হয়। পরে হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন এবং নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ‘খুবই কঠোর প্রতিশোধের’ অঙ্গীকার করেন।

নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা হিসেবে হোয়াইট হাউজ সিরিয়ার ভিসা ওভারস্টে হারের কথা উল্লেখ করেছে।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সিরিয়া দীর্ঘ সময় ধরে গৃহযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে দেশটি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করলেও, এখনও সেখানে পাসপোর্ট বা নাগরিক নথি ইস্যুর জন্য পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই এবং যথাযথ স্ক্রিনিং ও যাচাই ব্যবস্থাও অনুপস্থিত।’

এর আগে ট্রাম্প জুন মাসে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন এবং আরও ৭টি দেশের নাগরিকদের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তার দাবি ছিল, বিদেশি সন্ত্রাসী ও অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি থেকে দেশকে রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। এই নিষেধাজ্ঞা অভিবাসী ও অনভিবাসী— যেমন পর্যটক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ওই ১২ দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে।

এছাড়া ট্রাম্প আরও ১৫টি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রবেশ সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে নাইজেরিয়া। নভেম্বরের শুরুতে ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টানদের প্রতি আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছিলেন।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন