বিশ্ব

ভারতকে জ্বালানি দিতে কোনো ব্যাঘাত নয়, “নিরবচ্ছিন্ন” তেলের গ্যারান্টি পুতিনের

বৈঠকে ভারত ও রাশিয়া ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক রূপরেখায় সম্মত হয়েছে।

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০০:২৯

এক ফ্রেমে মোদী-পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

শিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ২৩তম ভারত–রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন, তার দেশ ভারতকে তেল, গ্যাস ও কয়লা—সবধরনের জ্বালানি “নিরবচ্ছিন্নভাবে” সরবরাহ করবে। তিনি বলেন, রাশিয়া একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার, এবং দ্রুত বিকাশমান ভারতীয় অর্থনীতির চাহিদা পূরণে প্রস্তুত।

পুতিন জানান, শুধু জ্বালানি নয়—পারমাণবিক শক্তি খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ভারতের তামিলনাডুর কুদানকুলামে নির্মাণাধীন বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছয়টি ইউনিটের দুটি ইতোমধ্যেই গ্রিডে যুক্ত হয়েছে, বাকি ইউনিটগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত এগোচ্ছে। পাশাপাশি ছোট মডিউলার রিয়্যাক্টর, ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং চিকিৎসা–কৃষিখাতে পরমাণু প্রযুক্তি উন্নয়নে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।

বৈঠকে ভারত ও রাশিয়া ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক রূপরেখায় সম্মত হয়েছে। এতে বাণিজ্য বাড়ানো, নৌ–লজিস্টিক পথ সম্প্রসারণ, জাহাজ নির্মাণ, আর্কটিক অঞ্চলে কাজের জন্য ভারতীয় নাবিক প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং শিল্প–কৃষি খাতে নতুন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার সহায়তায় ভারতে নতুন উরিয়া উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে।

সামরিক ক্ষেত্রে বড় কোনো চুক্তি ঘোষণা না হলেও দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে। রুবল–রুপি লেনদেন ব্যবস্থার কারণে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও স্বচ্ছ ও সহজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুই নেতা।

শান্তি ও কূটনীতির প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ভারত প্রথম দিন থেকেই ইউক্রেন সংকটে শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে। তার ভাষায়, “ভারত নিরপেক্ষ নয়, ভারতের পক্ষ শান্তি।” পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

পশ্চিমা দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যখন রুশ জ্বালানি আমদানি কমাতে ভারতের ওপর চাপ দিচ্ছে, তখন পুতিনের ‘নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ’-এর আশ্বাসকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দুই দেশই জানিয়েছে, বাহ্যিক চাপ বা বৈশ্বিক উত্তেজনা তাদের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না।

পুতিনের সফরের দিনটিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, রাজঘাটে শ্রদ্ধা নিবেদন, হায়দরাবাদ হাউসে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ব্যবসায়ী ফোরামে যোগদানসহ ব্যস্ত সূচি ছিল। রাতে রাষ্ট্রীয় ভোজ শেষে তিনি দিল্লি ত্যাগ করেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা, পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা—সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের এই শীর্ষ সম্মেলন রাশিয়া–ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর-ইন-চীফ

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন