সোশ্যাল মিডিয়া

তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর দীপঙ্কর দীপের মৃত্যুতে সিলেটজুড়ে শোকের ছায়া

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:০৬

দীপঙ্কর দাস দীপ

মাত্র ২১ বছরের এক তরুণ। এই বয়সেই তিনি অর্জন করেছিলেন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা, হাস্যরস আর ইতিবাচক চিন্তায় গড়ে তুলেছিলেন আলাদা পরিচয়। কিন্তু সেই দীপঙ্কর দাস দীপ আজ আর নেই— এই খবর পুরো সিলেটকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

বুধবার ভোরে মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সিলেটের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর দীপঙ্কর দীপ। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২১ বছর।

উচ্চ শিক্ষার জন্য মাত্র এক মাস আগে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন দীপ। হঠাৎ করেই এমন মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও ভক্তরা।

সিলেট নগরের গোপালটিলায় দীপদের বাসায় সকাল থেকেই চলছে কান্নার রোল। মা-বাবা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না আদরের ছেলেকে হারানোর শোক। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, মরদেহ মালয়েশিয়া থেকে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

সবার ফেসবুকে দীপ

দীপের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ছবি ঘিরে চলছে শোকের বন্যা। পরিচিত-অপরিচিত সবাই লিখছেন শোকবার্তা।

সঙ্গীতশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী গৌতম চক্রবর্তী লিখেছেন,

“ছেলেটার সাথে কোনোদিন দেখা হয়নি, কথা হয়নি। কিন্তু ওর ভিডিওগুলোতে ছিলো এক অনন্য সরলতা। ওর মৃত্যুটা বিশ্বাস করতে পারছি না। মাত্র এক মাস হলো মালয়েশিয়া গেছে উচ্চ শিক্ষার জন্য। কীভাবে মা এই ধাক্কা সামলাবেন? পরপারে ভালো থেকো দীপ।”

প্রবাসী সাংবাদিক ও একটিভিস্ট গোলাম রসুল খান লিখেছেন,

“বাচ্চা এই ছেলেটা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। আমাদের জীবন কত ক্ষণস্থায়ী, কে জানে!”

দীপিকা চক্রবর্তীর পোস্টে কেবল আকুতি—

“আমার মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি। হে ভগবান, এটা গুজব হোক। Dipankar Das Dip, বলো তো এটা মিথ্যা!”

সিলেটের জনপ্রিয় পেজ ‘নাটের গুরু’ লিখেছে,

“পরপারে ভালো থাকিস ভাই আমার। কিসের এত তাড়া ছিলো? কতো কিছু প্ল্যান করেছিলি। জানুয়ারিতে দেশে আসবি বলেছিলি। এখন বিশ্বাস হচ্ছে না, তুই আর নেই।”

আলোকচিত্রী বাপ্পী ত্রিবেদী লিখেছেন,

“মানুষের ফেসবুক স্টোরি এক্সপায়ার হওয়ার আগেই মানুষ এক্সপায়ার হয়ে যায়। অপারে ভালো থাকো দীপ।”

জনপ্রিয় নাট্যাভিনেতা বেলাল আহমদ মুরাদ তার শোকবার্তায় লিখেছেন,

“দীপের জন্য কতটা ভালোবাসা, তা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে সে আমাকে বলেছিল— সেখানে পড়াশোনা করবে। ও ছিল ভদ্র, শ্রদ্ধাশীল ও অমায়িক এক তরুণ। ওকে খুব মিস করবো।”

সঙ্গীতশিল্পী দিব্যানি দাস মিতালির অনুভূতি—

“এটা কি শুনলাম রে ভাই দীপঙ্কর! এমন সংক্ষিপ্ত মানুষের জীবন? এই খবর বিশ্বাস করা যায় না!”

রাজদীপ দেব দীপ লিখেছেন,

“দীপের মায়ের কান্না শুনে হৃদয় ভেঙে যায়। কিভাবে তিনি নিজেকে সামলাবেন? ঈশ্বর তাকে ধৈর্য দিন।”

রাণী বৈষ্ণবর পোস্টে ব্যথা—

“Dipankar Dip ভাই, তুমি আর নেই! পরপারে ভালো থেকো ভাই।”

কামরুল ইসলাম বিজয় লিখেছেন,

“এই খবর শুনে বিশ্বাস করতে পারিনি। আমরা জীবন নিয়ে এত অহংকার করি, অথচ বাঁচার নিশ্চয়তা এক সেকেন্ডেরও নয়। দীপ ছিল হাসি উজ্জ্বল এক ছেলেটা।”

আরও এক ঘনিষ্ঠজন ডি জে জিবস লিখেছেন,

“সেদিনই বলেছিলো খুব শীঘ্রই দেশে এসে বিয়ে করবে, আমাকেও থাকতে হবে! কী থেকে কী হয়ে গেলো!”

রাহেল সিরাজ লিখেছেন,

“অশ্লীলতা ছাড়াই হাস্যরসের মাধ্যমে সমাজের ত্রুটি তুলে ধরেছিল দীপ। এভাবে হঠাৎ তার চলে যাওয়া পুরো সিলেটবাসীকে চোখের জলে ভাসালো। সে ছিল সবার ‘দীপ’, সিলেটের গর্ব।”

পরিবারে শোকের মাতম

দীপ সিলেটের গোপালটিলার বাসিন্দা। তাদের মূল বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবলের পুটিজুড়ি গ্রামে। বাবা দিব্যোজ্যোতি দাস, দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ছিল দীপ।

তার স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বুকে ব্যথা অনুভব করলে হাসপাতালে নেওয়া হয় দীপকে। ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

দীপের প্রতিবেশী কবি পুলিন রায় বলেন,

“সকালে খবর শুনে তাদের বাসায় গিয়েছিলাম। তার বাবা-মা ভেঙে পড়েছেন। মালয়েশিয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।”

সবার ভালোবাসার দীপ

দীপ মূলত ফেসবুকে পারিবারিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে হাস্যরসাত্মক কনটেন্ট তৈরি করতেন। মা-সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের অংশগ্রহণে তৈরি তার ভিডিওগুলো অল্প সময়েই ভাইরাল হয়। তার সহজ ভাষা, মজার উপস্থাপন আর ইতিবাচক বার্তা তাকে করে তুলেছিল তরুণদের প্রিয় মুখ।

তার হঠাৎ মৃত্যু শুধু সিলেট নয়, অনলাইন দুনিয়ার মানুষকেও শোকাহত করেছে।
সবাই একবাক্যে বলছেন—
“এমন হাসিখুশি ছেলেটা এতো তাড়াতাড়ি চলে গেল কেনো!”

 

বায়ান্ননিউজ২৪/আইরিন

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আরো পড়ুন