মহাকাশে ঐতিহাসিক আবিষ্কার
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:০৭
ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ গবেষণায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। দক্ষিণ আফ্রিকার ৬৪টি রেডিও টেলিস্কোপ ডিশের সমন্বয়ে গঠিত 'মীরক্যাট' অ্যারে ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল সৌরজগতের বাইরে পৃথিবী থেকে ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত 'বিটা পিক্টোরিস বি' নামের একটি গ্যাসীয় দানব গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত করতে সফল হয়েছেন। এটিই প্রথমবার কোনো একক এক্সোপ্ল্যানেট থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত নিশ্চিত করা গেল।
তবে এই রেডিও সংকেত ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ নয়। এই সংকেত আসলে অরোরাল রেডিও নির্গমন, অর্থাৎ মেরুজ্যোতির মতো ঘটনা থেকে উৎপন্ন তরঙ্গ। পৃথিবীতে যেমন মেরুজ্যোতি দেখা যায় এবং বৃহস্পতি থেকে রেডিও তরঙ্গ নির্গত হয়, ঠিক একই ধরনের প্রক্রিয়ায় এই সংকেত তৈরি হচ্ছে।
গ্রহটি বৃহস্পতির তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১২ গুণ ভারী। হার্ভার্ড ও ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা মীরক্যাটের মাধ্যমে গ্রহটির নক্ষত্র থেকে সংকেতটি আলাদা করে শুধু গ্রহ থেকে আসা তরঙ্গটি চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। এই আবিষ্কার যেকোনো এক্সোপ্ল্যানেটের চৌম্বকক্ষেত্রের শক্তির প্রথম সরাসরি পরিমাপ।
গবেষণায় দেখা যায়, বিটা পিক্টোরিস বি-র চৌম্বকক্ষেত্র কমপক্ষে ১,২৫০ গাউস, যা বৃহস্পতির চৌম্বকক্ষেত্রের ২০০ গুণেরও বেশি শক্তিশালী। গবেষকরা মনে করছেন, গ্রহটির অস্বাভাবিক দ্রুত আবর্তন, মাত্র নয় ঘণ্টায় একটি পূর্ণ দিন সম্পন্ন হয়, এই অতিশক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত চারটি পৃথক পর্যবেক্ষণ সেশনে প্রতিবারই এই সংকেত ধরা পড়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের জুলাই মাসে বিটা পিক্টোরিস সিস্টেমের আরেকটি গ্রহ বিটা পিক্টোরিস ডি সরাসরি ছবি তুলে আলোচনায় আসে, যা পৃথিবী থেকে সরাসরি তোলা সবচেয়ে ম্লান এক্সোপ্ল্যানেটের ছবি।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইডো বার্জার বলেন, আমরা একাধিকবার ও একাধিক ফ্রিকোয়েন্সিতে এটি রেকর্ড করেছি, প্রতিবারই সংকেতটি সেখানে ছিল। তিনি আরও বলেন, আমি জানি রেডিও সংকেতকে ভিনগ্রহের বুদ্ধিমত্তার সাথে যুক্ত ভাবা হয়, কিন্তু এই ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা। গবেষণার প্রধান লেখক কেভিন ওরটিজ সেবালোস প্রথম সংকেতটি দেখে অবাক হয়ে বার্জারকে বলেছিলেন, আমার মনে হয় না আপনি এটি বিশ্বাস করবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আবিষ্কার শুধু একটি গ্রহের চৌম্বকক্ষেত্র পরিমাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতিতে প্রাণের বাসযোগ্য গ্রহ খোঁজার কাজেও বড় সাহায্য হবে, কারণ চৌম্বকক্ষেত্র একটি গ্রহকে মহাজাগতিক বিকিরণ থেকে রক্ষা করে প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করে।
বিজ্ঞান থেকে আরো পড়ুন