শেখ হাসিনা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিলের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
শেখ হাসিনার পক্ষে লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিংসলি ন্যাপলি এই নোটিশ পাঠায়। নোটিশে দাবি করা হয়েছে, তাকে অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার করে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, বিচার প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিযোগ সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি। এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৪ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, বিচারটি এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশে পরিচালিত হয়েছে যেখানে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইনজীবীদের ওপর হামলার বিষয়গুলোও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, বিচারকদের মধ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং এতে বিচারিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এমনকি একজন বিচারক আগেই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
প্রধান প্রসিকিউটরের রাজনৈতিক অবস্থান ও আওয়ামী লীগবিরোধী মনোভাব বিচারকে প্রভাবিত করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রসিকিউশন টিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এটি মূলত ১৯৭১ সালের অপরাধ বিচারের জন্য গঠিত হলেও পরবর্তীতে এর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, যা আইনি দৃষ্টিতে বিতর্কিত।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষে আইনজীবীরা কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন—
রায় অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পুনর্বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে হবে।
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন