প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৩:১৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, চুক্তিটি করার আগে বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকেও সম্মতি ছিল। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন এবং তারা এতে সম্মতি জানিয়েছিলেন।
তার দাবি, চুক্তিটি হঠাৎ করে নির্বাচনের ঠিক আগে করা হয়নি; বরং প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চলেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ও শুল্ক ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং কয়েক মাস ধরে দরকষাকষির পর চুক্তির কাঠামো তৈরি হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এতে নির্বাচন ঘিরে সমঝোতার ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ দাবি করে আসছিল যে, দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিদেশি শক্তির সমর্থনে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং নির্বাচন ছিল সমঝোতার ফল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
চুক্তিটি স্বাক্ষর হয় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে। এ কারণে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছেন, একটি অনির্বাচিত সরকার কীভাবে এত বড় অর্থনৈতিক চুক্তি করে যেতে পারে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এ ধরনের চুক্তির দায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত সরকারের ওপরই পড়ে।
চুক্তি নিয়ে সমালোচনার জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এতে বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হয়নি। অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে ধরনের চুক্তি হয়েছে, বাংলাদেশের চুক্তির ভাষাও প্রায় একই ধরনের।
তার মতে, বাংলাদেশ তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু শুল্ক সুবিধা পেয়েছে, যা দেশের পোশাক শিল্পের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তিতে এমন ধারা রয়েছে যাতে সরকার চাইলে তা পর্যালোচনা করতে পারে। প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময়ের নোটিস দিয়ে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের প্রশ্ন, যদি চুক্তিটি দেশের স্বার্থেই হয়ে থাকে, তাহলে কেন এত সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। অনেকের মতে, এই চুক্তি এবং এর আগে-পরে হওয়া রাজনৈতিক ঘটনাগুলো দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন