প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮:২২
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ৫১৯ জন প্রার্থী ঋণগ্রহীতা বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন। শতাংশের হিসাবে যা ২৫ দশমিক ৬২।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যরা।
সুজন জানায়, ঋণগ্রহীতা প্রার্থীদের মধ্যে ৭৫ জনের ঋণের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকার বেশি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। দলটির ১৬৭ জন প্রার্থী ঋণগ্রহীতা, যা মোট ঋণগ্রহীতার ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ।
সংস্থাটি আরও জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর হার কিছুটা কমেছে। আগের নির্বাচনে এই হার ছিল ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশে।
প্রার্থীদের আয় সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট প্রার্থীর প্রায় ৪১ শতাংশের বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ টাকার নিচে। সংখ্যায় যা ৮৩২ জন। এক কোটি টাকার বেশি আয় রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৯৫ জন।
সুজনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৩১৯ জন আয়কর প্রদান করেছেন। তবে ১৩২ জন প্রার্থী কেবল টিআইএন সনদ জমা দিয়েছেন, আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি। এ ছাড়া কিছু প্রার্থী শুধু প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যা মনোনয়নকে অসম্পূর্ণ করে তোলে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীদের মধ্যে ৪৭৯ জন পাঁচ হাজার টাকা বা এর কম কর দিয়েছেন। এক লাখ টাকার বেশি কর দিয়েছেন ৩৫৮ জন এবং ১০ লাখ টাকার বেশি কর দিয়েছেন ১১৬ জন প্রার্থী।
সুজন জানায়, এবারের নির্বাচনে আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর হার বেড়েছে। আগের নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ১০ শতাংশে।
আয়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৭৪১ জন প্রার্থীর বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে। ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন এবং ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার মধ্যে আয় করেন ৭১ জন প্রার্থী। এছাড়া ১৫৫ জন প্রার্থী হলফনামায় আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি।
কোটি টাকার বেশি আয় করা প্রার্থীদের মধ্যে সংখ্যায় এগিয়ে বিএনপি। দলটির ৫১ জন প্রার্থীর আয় এক কোটির বেশি। এরপর রয়েছেন ২৫ জন স্বতন্ত্র এবং পাঁচ জন জাতীয় পার্টির প্রার্থী।
শীর্ষ আয়কারীদের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন কুমিল্লা ৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে টাঙ্গাইল ১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম, যার আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন লক্ষ্মীপুর ১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী, যার আয় প্রায় ১৯ কোটি টাকা।
বায়ান্ননিউজ২৪/সৈকত
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন