প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ২২:৫২
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত
দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ কমাতে এবার আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ব্যাংকগুলো। খেলাপিদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় বাড়াতে এবং ঋণ সংস্কৃতিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব জমা দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ।
ব্যাংকারদের সংগঠনটি ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরির লক্ষ্যে নাম ও ছবি প্রকাশের অনুমতি চেয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা ছাড়া খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিদেশ যাত্রা বন্ধ রাখা এবং কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এই প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আইনি দুর্বলতা ও নানা সুযোগের কারণে অনেক ঋণগ্রহীতা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে ব্যাংক খাতে ঝুঁকি বাড়ছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
খেলাপি ঋণ কমাতে সংগঠনটি কয়েকটি কাঠামোগত প্রস্তাবও দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আংশিক ঋণ অবলোপনের সুযোগ, লিয়েন করা শেয়ার দ্রুত নগদায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং মৃত্যু, গুরুতর অসুস্থতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সুদ মওকুফ সহজ করা।
নগদ অর্থ আদায় বাড়াতে ব্যাংকগুলো প্রস্তাব করেছে, খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে যেকোনো আইনি পদক্ষেপের আগে নির্দিষ্ট অঙ্কের ডাউন পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হোক এবং সিআইবি প্রতিবেদন নিয়ে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ পাওয়ার সুযোগ সীমিত করা হোক।
বন্ধকী সম্পদ বিক্রি সহজ করতে নিলামে বিক্রিত সম্পত্তিতে কর ও ভ্যাট ছাড়, ক্রেতাদের প্রণোদনা, জেলা প্রশাসনের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা শিথিল এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দ্রুত নামজারির ব্যবস্থার কথাও প্রস্তাবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি অর্থঋণ আদালতের রায় দ্রুত কার্যকরের জন্য পৃথক আদালত স্থাপন ও ব্যক্তিগত হাজিরা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে।
খেলাপি ঋণ যেন নতুন করে না বাড়ে, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ভূমি জরিপকারী ও মূল্যায়নকারীর তালিকা প্রকাশ, বন্ধকী সম্পদের তথ্য যাচাই সহজ করা এবং ব্যক্তিগত সম্পদের একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরির কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ হিসাবে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। ব্যাংকারদের মতে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে খেলাপি ঋণের লাগাম টানা সম্ভব হবে। অন্যথায় বারবার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে খেলাপিরা সুবিধা নেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
বায়ান্ননিউজ২৪/আইরিন
অর্থনীতি থেকে আরো পড়ুন