বিশ্ব

দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেও অবস্থানে অনড় থাকার অঙ্গীকার আয়াতুল্লাহ খোমেনির

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:৫০

ইরানের চলমান গণবিক্ষোভ ও যুক্তরাষ্ট্রের কড়া হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপটে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনো চাপের মুখে পিছু হটবে না। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের মধ্যেই তিনি এই বক্তব্য দেন।

 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে খামেনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না। তিনি সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত অংশকে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের থেকে আলাদা করে দেখার আহ্বান জানান।

 

গত কয়েক দিনে ইরানের ৩১টি প্রদেশের বহু শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও সরকারি ভবন ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করা হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস।

 

খামেনি তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি ইসরায়েল-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান প্রসঙ্গেও কথা বলেন।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হলে ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত। এই মন্তব্যের জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ইরানের জনগণই।

 

বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন শহরে সমাবেশ ও মিছিল চালিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তেহরান, মাশহাদ, তাবরিজ, ইসফাহান ও কেরমানশাহসহ বিভিন্ন শহরে জনসমাগমের দৃশ্য দেখা গেছে, যদিও এসব ভিডিওর সবকটির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো চলমান পরিস্থিতিতে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২-২৩ সালের আন্দোলনের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের ঢেউ। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক বার্তায় স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

সূত্র: এএফপি।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন