ভেনিজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক শতাংশের বেশি কমে গেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের সামান্য ওপরে নেমে আসে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম এক দশমিক চার শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৫৬ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়ায়।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে জানান, অবরোধের মুখে থাকা ভেনিজুয়েলা থেকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে। ট্যাংকার ও সংরক্ষণাগারে আটকে থাকা প্রায় ৩০০ কোটি ডলার সমমূল্যের এই তেলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে সরাসরি তার হাতে। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্টোরেজ শিপের মাধ্যমে এই তেল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে আনা হবে বলে জানান ট্রাম্প। ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের কাছে দেশটির তেল শিল্পে যুক্তরাষ্ট্র ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পূর্ণ প্রবেশাধিকার চেয়েছেন। এই চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটকে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনিজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রে গেলে চীনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। কারণ বর্তমানে ভেনিজুয়েলার উৎপাদিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই রপ্তানি হয় চীনে। এই সরবরাহ ব্যাহত হলে বেইজিংকে বেশি দামে তেল কিনতে হতে পারে।
এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর দেশটির পূর্ণ সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং ভেনিজুয়েলার জনগণের স্বার্থবিরোধী বলেও মন্তব্য করেছে বেইজিং।
ভেনিজুয়েলার তেল শিল্প পুনর্গঠন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন, কনোকোফিলিপস ও এক্সন মবিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির মতে, ভেনিজুয়েলার জরাজীর্ণ তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে অন্তত ১৫ বছর সময় এবং প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
একসময় দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনকারী দেশটির বর্তমান উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেলে। এই বাস্তবতায় ভেনিজুয়েলার তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বায়ান্ননিউজ২৪/আবির
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন