বিশ্ব

ট্রাম্পের সামরিক হুমকির পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপে আগ্রহী ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:১০

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেওয়ার ঘটনার পর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তুলনামূলক নরম অবস্থান নিতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এক বিবৃতিতে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌথ উন্নয়নের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার একটি কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে তার সরকার আগ্রহী। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ ও গোটা অঞ্চল যুদ্ধ নয়, শান্তি ও সংলাপের পথেই এগিয়ে যেতে চায়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করাকে অবৈধ ও অপহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন রদ্রিগেজ। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি বলেন, তার সরকার উভয় দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চায়।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা যদি তাদের তেল খাত বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত না করে এবং মাদক পাচার বন্ধে সহযোগিতা না করে, তাহলে নতুন করে সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যা লুটে নিয়েছে, তা ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়ে দেশটির পেট্রোলিয়াম শিল্প পুনর্গঠন করবে এবং বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

মাদুরোকে সোমবার নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে বড় মাদক পাচারকারী চক্রকে সহায়তা এবং কোকেন পরিবহনে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার অভিযোগ আনার প্রস্তুতি নিয়েছেন মার্কিন প্রসিকিউটররা। তবে মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তাকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। জাতিসংঘসহ একাধিক দেশ এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর অপসারণ পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ইতোমধ্যে দেশটি থেকে লাখো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন