বিশ্ব

মতপ্রকাশ দমনের অভিযোগে সাবেক ইইউ কমিশনারসহ পাঁচজনের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:৫৭

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে ভূমিকা রাখার অভিযোগে সাবেক ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনারসহ পাঁচজনের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন সরকার।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ পায়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, চরমপন্থি কর্মী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কিছু বেসরকারি সংগঠন বিদেশি সরকারের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেন্সরশিপ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এতে সরাসরি মার্কিন নাগরিক ও মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভিসা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের সাবেক শীর্ষ প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রক থিয়েরি ব্রেতোঁ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট আইনের মূল পরিকল্পনাকারী। এই আইনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি জোরদার করা হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রক্ষণশীল রাজনীতিক ও সংগঠনের দাবি, এই আইন মূলত ডানপন্থি মতামত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও ইউরোপীয় কমিশন এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

থিয়েরি ব্রেতোঁ এর আগেও এক্স প্ল্যাটফর্মের মালিক ইলন মাস্কের সঙ্গে ইউরোপীয় আইন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়েছিলেন। সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশন নীল টিক ব্যবস্থাকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে এক্সকে ১২০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করে। এটি ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট আইনের অধীনে প্রথম বড় জরিমানা। এর প্রতিবাদে এক্স প্ল্যাটফর্মে ইউরোপীয় কমিশনের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভিসা নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় থিয়েরি ব্রেতোঁ এক্সে লেখেন, আমাদের মার্কিন বন্ধুদের জানাতে চাই সেন্সরশিপ তারা যেখানে ভাবছে সেখানে নেই।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্যভিত্তিক গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইনডেক্সের প্রধান ক্লেয়ার মেলফোর্ডের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমন্ত্রী সারা বি রজার্স অভিযোগ করেন, সংস্থাটি মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে মার্কিন গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশকে কালো তালিকাভুক্ত করতে উৎসাহ দিয়েছে।

তবে জিডিআই এক বিবৃতিতে জানায়, এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর একটি কর্তৃত্ববাদী আক্রমণ।

এ তালিকায় আরও রয়েছেন অনলাইন ঘৃণা ও ভুয়া তথ্যবিরোধী সংগঠন সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেইটের প্রধান ইমরান আহমেদ। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ দমনের প্রচেষ্টার অন্যতম সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এ ছাড়া জার্মান সংগঠন হেটএইডের দুই প্রধান নির্বাহী আন্না লেনা ফন হোডেনবার্গ ও জোসেফিন বালোঁর ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, এটি এমন এক দমনমূলক পদক্ষেপ যা সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করতে চায়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, বিশ্বজুড়ে সেন্সরশিপ ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের এজেন্টদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট পররাষ্ট্রনীতি মার্কিন সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ মেনে নেয় না। বিদেশি সেন্সরদের মাধ্যমে মার্কিন মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও গ্রহণযোগ্য নয়।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন