ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম
যুক্তরাজ্যে নির্ধারিত সময়ের আগে সাধারণ নির্বাচন দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তিনি জানিয়েছেন, এখনই নির্বাচন আয়োজনের বদলে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ব্যবসাগুলোর খরচের চাপ মোকাবিলায় সরকারের মনোযোগ থাকবে।
শুক্রবার লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনের আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহাম আগাম নির্বাচন নিয়ে চলমান জল্পনা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, তিনি শিগগিরই সাধারণ নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ওপরই তার মনোযোগ রয়েছে।
আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আগামী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালে হবে কি না জানতে চাইলে বার্নহাম সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বলেন। তিনি আগাম নির্বাচন নিয়ে চলা আলোচনা বন্ধ করার কথাও জানান।
বিবিসির আঞ্চলিক রাজনৈতিক সম্পাদকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারেও একই অবস্থান জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। আগামী মে মাসে স্থানীয় নির্বাচনের সঙ্গে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণ নির্বাচন হবে না।
বার্নহাম বলেন, বর্তমান সময়ে সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচের চাপ কমানো। তার ভাষায়, নির্বাচন আয়োজন করলে দেশ আবার দীর্ঘ রাজনৈতিক বিতর্ক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে ঢুকে পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চান মানুষ তাদের জীবনে আবার কিছুটা আশার অনুভূতি ফিরে পাক। এ লক্ষ্যেই সরকারের কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিতে চান তিনি, নতুন করে দেশকে নির্বাচনী চক্রে ফেরাতে নয়।
যুক্তরাজ্যের বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ অনুযায়ী আগাম নির্বাচন না হলে ২০২৯ সালের জুলাইয়ে পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী চাইলে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে পারেন।
অ্যান্ডি বার্নহাম ২০ জুলাই ২০২৬ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১৬ জুলাই লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন।
এদিকে সাক্ষাৎকারগুলোতে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের বিষয়েও কথা বলেন বার্নহাম। বুধবার ১০টি নৌকায় ৭৮১ জন যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর তথ্যের পর তিনি বলেন, তার লক্ষ্য হলো এ ধরনের আগমন বন্ধ করা। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি জানাননি। তিনি বলেন, আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে না যাওয়া পর্যন্ত সরকার কাজ চালিয়ে যাবে।
এ ক্ষেত্রে ব্রেক্সিটের পর প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা কমে যাওয়ায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা ঠেকানোর সক্ষমতা যুক্তরাজ্যের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে বার্নহাম আরও জানান, সংবাদপত্র ‘দ্য সান’-কে তিনি কোনো বিশেষ সাক্ষাৎকার দেবেন না। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের আঞ্চলিক মেয়রদের রাতযাপনের ওপর নতুন কর আরোপের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পর্যটকরা এ জন্য কয়েক পাউন্ড অতিরিক্ত খরচ করতে আপত্তি করবেন না।
আগামী মাসের বাজেট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের হাতে থাকা সম্পদের মধ্যে থেকে জনগণকে সহায়তা করার জন্য যা সম্ভব, তা করা হবে বলে জানান তিনি।
বার্নহামের নেতৃত্বে আগামী সপ্তাহে লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম লেবার সম্মেলন। সম্মেলনে সরকারের ভবিষ্যৎ নীতি ও দেশের জন্য তার পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা তুলে ধরার কথা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন