ধর্ম

কোরআনের আলোকে হালাল ও হারাম

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ ০৩:৪৮

ডিজিটাল গ্রাফিক্স: বায়ান্ননিউজ২৪

ইসলামি জীবনব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো পবিত্র কোরআন। মানুষের ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক আচরণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোন বিষয়গুলো বৈধ আর কোনগুলো নিষিদ্ধ তা কোরআনেই স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কোরআনের বাইরে অন্য কোনো উৎস যুক্ত না করে, কেবল আল্লাহর কিতাবে ঘোষিত হালাল ও হারামের নির্দেশনাগুলো এখানে তুলে ধরা হলো।

হালাল বিষয়ে কোরআনের নির্দেশনা

খাদ্য ও পানীয়
আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে বিদ্যমান পবিত্র ও উত্তম খাদ্য ভক্ষণ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং হালাল বস্তু থেকে আহার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সমুদ্রের শিকার ও সমুদ্রজাত খাদ্য মানুষের জন্য বৈধ করা হয়েছে।
আল্লাহর নামে যবেহ করা বৈধ পশু ভক্ষণ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

পারিবারিক ও সামাজিক জীবন
বিবাহকে বৈধ করা হয়েছে এবং পবিত্র নারীদের সঙ্গে শরিয়তসম্মত দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার দাম্পত্য সম্পর্ককে হালাল ঘোষণা করা হয়েছে।

অর্থনীতি ও জীবনাচরণ
বৈধ ব্যবসা ও লেনদেনকে আল্লাহ হালাল করেছেন এবং মানুষকে পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের অনুমতি দিয়েছেন।

হারাম বিষয়ে কোরআনের নির্দেশনা

খাদ্য ও পানীয়
মৃত প্রাণীর মাংস, রক্ত এবং শূকরের মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত পশু হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মদ ও নেশাজাতীয় বস্তু
মদ ও জুয়াকে শয়তানের অপবিত্র কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আকীদা ও বিশ্বাস
আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার করা অর্থাৎ শিরককে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আল্লাহকে অস্বীকার করা ও কুফর হারাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নৈতিক ও সামাজিক অপরাধ
ব্যভিচারের নিকটবর্তী হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা হারাম।
চুরি ও অবৈধভাবে অন্যের সম্পদ দখল নিষিদ্ধ।
মিথ্যা সাক্ষ্য, প্রতারণা ও অসৎ আচরণ পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা
সুদ বা রিবা স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।


কোরআনের দৃষ্টিতে হালাল ও হারামের সীমারেখা অত্যন্ত স্পষ্ট। আল্লাহ যা বৈধ করেছেন তা হালাল এবং যা নিষিদ্ধ করেছেন তা হারাম। এই নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করার মধ্যেই রয়েছে মানুষের নৈতিকতা, সামাজিক শৃঙ্খলা ও সার্বিক কল্যাণ।

বায়ান্ননিউজ২৪/ইসলামী ডেস্ক

ধর্ম থেকে আরো পড়ুন