রাজনীতি

টানা আট মাস দেশে আত্মগোপনের পর যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ড. একে আব্দুল মোমেন

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:২২

৫ আগস্ট ২০২৪ এর আগে ও পরে (ডানে) ড. মোমেন

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. একে আব্দুল মোমেন টানা আট মাস দেশের ভেতরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশে অবস্থান করায় অন্য অনেক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী এমপির মতো তাকেও নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে যেতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ড. মোমেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে দৈনিক মানবজমিন।

ড. মোমেন জানান, ধরা পড়ার আশঙ্কায় তিনি একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করেছেন, ছয়বার মোবাইল সিম বদলেছেন এবং নিজের চেহারায়ও পরিবর্তন এনেছেন। দাড়ি রেখে সাধারণ মানুষের মতো থাকার চেষ্টা করেছেন, যেন কেউ চিনতে না পারে। দীর্ঘ সময় তিনি সম্পূর্ণ অন্তরালে ছিলেন। তার খোঁজখবর অনেকের কাছেই অজানা ছিল।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। কয়েক দিন আগে দেশে ফেরার পরই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। ফলে তাকে আত্মগোপনে যেতে হয়। কীভাবে তিনি দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আপাতত অনিচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

আত্মগোপনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. মোমেন বলেন, এটি যেন একটি সিনেমার গল্প। তিনি দাবি করেন, কোনো অনিয়ম বা অপরাধের সঙ্গে কখনো জড়িত না থাকলেও পরিস্থিতির কারণে জীবন বাঁচাতে আত্মগোপনই একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়ায়। নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তার সতর্কবার্তার পর তাকে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে হয় বলেও জানান তিনি।

ড. মোমেন আরও বলেন, তিনি কোনো আত্মীয়স্বজনের বাসায় ছিলেন না। বরং সাধারণ মানুষের ভাড়া বাসায় অবস্থান করেছেন। গোপনীয়তা বজায় রাখতে নাপিত পর্যন্ত অন্য বাসায় ডেকে চুল ও দাড়ি কাটিয়েছেন, যাতে কেউ তার অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে।

দেশ ছাড়ার বিষয়েও তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য। সরকারি পর্যায়ের কিছু সহায়তা তিনি পেয়েছেন, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই সবকিছু প্রকাশ করতে চান না।

কথার শেষাংশে ড. মোমেন বলেন, তিনি নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই মনে করেন। দেশকে অস্থিতিশীলতা ও চরমপন্থা থেকে রক্ষা করা জরুরি। এজন্য সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ড. একে আব্দুল মোমেন একজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও কূটনীতিক। তিনি জাতিসংঘে দীর্ঘদিন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি মৃদুভাষী ও কূটনৈতিক আচরণের জন্য পরিচিত ছিলেন। অনেকেই মনে করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তার মতো অভিজ্ঞ ও শিক্ষিত রাজনীতিকের এমন জীবনযাপন দেশের রাজনীতির এক কঠিন বাস্তবতার প্রতিফলন।

বায়ান্ননিউজ২৪/নিউজরুম এডিটর 

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন