সোশ্যাল মিডিয়া

রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন, ২০১৮ নির্বাচন ও নেপথ্যের অপ্রকাশিত গল্প—নইম নিজামের স্মৃতিচারণ

তিনি বললেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে অতি-উৎসাহী সামরিক, বেসামরিক আমলা ও কতিপয় উপদেষ্টা বড় ভুল করেছিলেন। ভোট নিরপেক্ষভাবে তারা হতে দেননি। আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে আমাদের খেসারত দিতে হবে।

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:১৯

সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক নইম নিজাম আজ সামাজিক মাধ্যমে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্মৃতিচারণ শেয়ার করেছেন।

তার বক্তব্যে উঠে এসেছে—

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নেপথ্যের ভূমিকা, রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা, এবং আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞ নেতাদের রাজনীতি থেকে ক্রমে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার বেদনাদায়ক বাস্তবতা।

নইম নিজাম জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাজনৈতিক এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি শুনেছিলেন:

২০১৮ সালের অতি-উৎসাহী সামরিক ও বেসামরিক আমলা এবং কিছু উপদেষ্টার কারণে নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছে। আলোচনায় আরও উঠে আসে—আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে দেশকে এর খেসারত দিতে হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন প্রসঙ্গেও সেই নেতা গণভবনে গিয়ে নিজের বা সহযোদ্ধা প্রজন্মের কাউকে রাষ্ট্রপতি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন নইম নিজাম।

ওয়ান–ইলেভেনের পর যেভাবে রাজ্জাক, তোফায়েল ও সুরঞ্জিতের মতো শীর্ষ নেতারা প্রান্তে ঠেলে পড়েছিলেন—তেমনি তিনিও ধীরে ধীরে সিদ্ধান্তের পরিধির বাইরে চলে গিয়েছিলেন, হয়ে উঠেছিলেন দর্শক।

বর্তমানে ৫ আগস্টের ঘটনার পর ওই নেতার কারাবাস ও ৮৫ বছর বয়সে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া—এই পুরোনো স্মৃতিগুলোকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নইম নিজামের ভাষায়—

ইতিহাসের অপ্রকাশিত গল্পগুলো বই প্রকাশের আগেই জানিয়ে রাখার ইচ্ছা থেকেই তিনি এই স্ট্যাটাসটি শেয়ার করেছেন।

হুবহু নইম নিজামের মূল স্ট্যাটাস

**“আমু রাষ্ট্রপতি মনোনায়ন ও ১৮ সালের ভোট

২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে পুত্রের বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম। চায়ের টেবিলে অনেক কথা হলো। তিনি বললেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে অতি-উৎসাহী সামরিক, বেসামরিক আমলা ও কতিপয় উপদেষ্টা বড় ভুল করেছিলেন। ভোট নিরপেক্ষভাবে তারা হতে দেননি। আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে আমাদের খেসারত দিতে হবে।

আমি বললাম, আপনি গিয়ে বলুন?

জবাবে তিনি বললেন, আমাদের কথা কে শুনবে? আমরা এখন দর্শকসারিতে।

রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন নিয়ে তিনি গণভবনে গিয়ে বলেছিলেন, তাকে বা তার সমসাময়িক কাউকে রাষ্ট্রপতি করতে। বিষটি জেনে ফোন করেছিলাম। জবাবে বললেন , বলে এসেছি। বলা দরকার ছিল মনে হয়েছে।

জীবনের পরতে পরতে সংগ্রামী মানুষটি ছিলেন নেতা তৈরির কারিগর—স্পষ্টবাদী চিন্তার। ওয়ান-ইলেভেনের পর রাজ্জাক, তোফায়েল, সুরঞ্জিতের মতো তিনিও খসে পড়েছিলেন।

৫ আগষ্টের পর আটক হয়ে এখন কারাগারে তিনি। জীবনের শেষ প্রান্তে ৮৫ বছর বয়সে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। আজ সামাজিক মাধ্যমে অনেকে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। ভাবলাম, ইতিহাসের অপ্রকাশিত কথাগুলো বই প্রকাশের আগেই জানিয়ে রাখি।”

 

বায়ান্ননিউজ২৪/সম্পাদক

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আরো পড়ুন