বিশ্ব

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২:৩২

আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। ইসলামাবাদের দাবি, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি লক্ষ্য করেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। খবর জানিয়েছে লজাজিরা।

পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তান টিটিপি এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর অন্তত সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানায় হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলে সক্রিয় ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এক আফগান সূত্র জানিয়েছে, রবিবার দুটি সীমান্ত প্রদেশে হামলা হয়। পাকটিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য হামলাটি হয়েছে নানগারহার প্রদেশে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইসলামাবাদ, বাজায়ুর ও বান্নুতে সাম্প্রতিক হামলার পেছনে আফগানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। তারা বলছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা ঠেকাতে কাবুলকে বারবার আহ্বান জানানো হলেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা বহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা সদস্য নিহত হন। এর আগে বাজায়ুরে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি হামলায় ১১ সৈনিক ও এক শিশু প্রাণ হারায়। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ওই হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক ছিলেন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের খাদিজা তুল কুবরা মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় ৩১ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হন। ওই হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও রাজধানীতে এমন হামলা পাকিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পাকিস্তান সরকারের দাবি, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তালেবান সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ, যাতে আফগান ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার না হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত জুড়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সামরিক পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন