বিশ্ব

তাইওয়ানে অস্ত্র ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলেন শি জিনপিং

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪:৪৬

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং।ছবি: রয়টার্স

তাইওয়ানকে ঘিরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফোনালাপে শি জিনপিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে চীন। তবে তাইওয়ান ইস্যুকে তিনি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তাইওয়ান প্রসঙ্গে শি জিনপিং বলেন, স্বশাসিত দ্বীপটি চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা চীনের দায়িত্ব। এ অবস্থায় তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি বা সরবরাহের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া উচিত বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানান তিনি।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ফোনালাপকে দীর্ঘ, বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, আলোচনায় তাইওয়ান ছাড়াও ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের তেল ও গ্যাস আমদানির বিষয় উঠে আসে।

এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ বেশ কয়েকজন পশ্চিমা নেতা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে বেইজিং সফর করেছেন।

এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরের অপেক্ষায় রয়েছেন। একই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি বর্তমান ১ কোটি ২০ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি টনে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কও বেশ ভালো।

উল্লেখ্য, চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানের সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণের দাবি জানিয়ে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও অস্বীকার করেনি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বেইজিংয়ের সঙ্গে, তবুও ওয়াশিংটন তাইওয়ানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। গত ডিসেম্বর ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তকে চীন তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেয়।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন