ইরানের পার্লামেন্ট । ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ইরান ঘোষণা করেছে, ইইউভুক্ত দেশগুলোর সামরিক বাহিনীকে তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করবে। ইইউ কর্তৃপক্ষ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ইইউর দাবি, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস ভূমিকার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ নানা ধরনের কড়াকড়ি আরোপের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রোববার ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করে ইউরোপীয়রা নিজেদের স্বার্থের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ অনুসরণ করে ইইউ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এর জবাবে ইরানের বিদ্যমান আইনের আওতায় ইইউভুক্ত দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে।
ইরানি পার্লামেন্ট জানায়, ২০১৯ সালে গৃহীত একটি আইনের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই আইনে বলা আছে, কোনো দেশ যদি ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বা আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করে, তাহলে পাল্টা হিসেবে ওই দেশের সামরিক বাহিনীও ইরানে সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইইউর সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, আইআরজিসি ইরানের রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর অংশ এবং দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত ইরান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে তেহরানের কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেতে পারে।
বায়ান্ননিউজ২৪/আবির
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন