সিরিয়ায় কুর্দি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের নাগরিকত্ব ও ভাষাগত অধিকার পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা এক আদেশে কুর্দি ভাষাকে আরবি ভাষার পাশাপাশি জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়া কুর্দিদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে আলেপ্পোতে সংঘর্ষের পর জাতীয় ঐক্য জোরদারের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনের পর থেকেই নতুন সরকার সারাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে উদ্যোগ নিচ্ছে।
ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা বলেন, কুর্দি জনগোষ্ঠীকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর গুজবে কান না দিতে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কুর্দিরা রাষ্ট্র গঠনের অংশীদার এবং সরকার তাদের সব অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শুক্রবার জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, ১৯৬২ সালে হাসাকাহ প্রদেশে পরিচালিত এক আদমশুমারির ফলে যেসব কুর্দি নাগরিকত্ব হারিয়েছিলেন, তাদের নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করা হবে। পাশাপাশি স্কুলে কুর্দি ভাষায় শিক্ষাদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কুর্দি নববর্ষ নওরোজকে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়েছে। জাতিগত বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিদ্বেষ ছড়ালে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
উত্তর পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি প্রশাসন এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও একে প্রাথমিক ধাপ বলে মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, সাময়িক আদেশের চেয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও স্থায়ী অন্তর্ভুক্তিই কুর্দি জনগণের মূল লক্ষ্য।
এর আগে আলেপ্পোতে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। পরে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস সেখান থেকে সরে গেলে সিরীয় সেনাবাহিনী পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এতে উত্তর পূর্বাঞ্চলের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল একীভূতকরণ নিয়ে চলমান আলোচনার জটিলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
আসাদের পতনের পর নতুন সরকার সারাদেশে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে আইএস বিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র এসডিএফ দামেস্ক ও তুরস্কের রাজনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে রয়েছে।
বায়ান্ননিউজ২৪/আবির
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন