এই ঐতিহ্যের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই দশক আগে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ২২:৩৫
রবিবার (১১ জানুয়ারি) লন্ডনে আবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে এক ব্যতিক্রমী ও চমকপ্রদ ঐতিহ্য। বছরের পর বছর ধরে চলা এই আয়োজনে শীতের জানুয়ারিতে শত শত মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। নিয়ম একটাই শরীরের ওপরের অংশে থাকবে স্বাভাবিক পোশাক কিন্তু নিচে ট্রাউজার নয় কেবল অন্তর্বাস পরে পাতালরেলে যাত্রা।
এই ব্যতিক্রমী আয়োজন প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের একটি রবিবার অনুষ্ঠিত হয়। নির্দিষ্ট কিছু পাতালরেল স্টেশনে অংশগ্রহণকারীরা আগে স্বাভাবিক পোশাকেই জড়ো হন। পরে নির্ধারিত মুহূর্তে তারা ট্রাউজার খুলে রেখে কেবল অন্তর্বাস পরে সাধারণ যাত্রীর মতো ট্রেনে ওঠেন। পুরো বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং আকস্মিক।
এই দিনে লন্ডনের পাতালরেলের কামরাগুলো রঙিন অন্তর্বাসে ভরে ওঠে। কেউ হাসতে হাসতে ছবি তুলছেন কেউ আবার বিস্মিত সাধারণ যাত্রীদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছেন। প্রথমে অনেক যাত্রী চমকে উঠলেও মুহূর্তের মধ্যেই সেই বিস্ময় রূপ নেয় হাসি আর আনন্দে। পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও বিনোদনপূর্ণ।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী এই আয়োজনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বার্তা বা সামাজিক প্রতিবাদের উদ্দেশ্য নেই। এটি মানুষের দৈনন্দিন একঘেয়েমি ভেঙে কিছুটা আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার একটি নির্ভেজাল প্রয়াস। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই বলেন কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা ও ব্যস্ত জীবনের মাঝেও মানুষ যে হাসতে পারে একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে সেটিই এই আয়োজনের মূল বার্তা।
এই ঐতিহ্যের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই দশক আগে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। লন্ডনে এটি এখন একটি পরিচিত বার্ষিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে যেখানে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
শীতের কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও অন্তর্বাস পরে পাতালরেলে যাত্রা অনেকের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও অংশগ্রহণকারীদের মতে এই কয়েক মিনিটের আনন্দই তাদের দীর্ঘ সময়ের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই এই ব্যতিক্রমী ঐতিহ্যের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
বায়ান্ননিউজ২৪/চৈতী
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন