কানাডায় ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে মামলা, তালিকায় ২০৯ বাংলাদেশি

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৩:১৫ (বুধবার)
কানাডায় ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে মামলা, তালিকায় ২০৯ বাংলাদেশি

কানাডায় ভুয়া নথিপত্র ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে ভিজিটর ভিসা পাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থা সিবিএসএ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেওয়া ২৪৩টি ভিসা আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কানাডার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং ভিসা আবেদনে ভুল তথ্য দিতে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

সিবিএসএর ২২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে ওই দিন চারজন হাজির হন। তাঁরা হলেন রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাচ্ছার আলম ভূঁইয়া এবং কাজী নাফিজ আলম। তাঁদের মধ্যে রাসেল মির্জা ও মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম মন্ট্রিয়লে এবং মো. মুদাচ্ছার আলম ভূঁইয়া টরন্টোতে বসবাস করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে সিবিএসএ। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

তদন্তের শুরু ২০২৪ সালে

সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ে শহরের একটি আবাসিক বাড়িতে তল্লাশি ও নিয়ম যাচাইয়ের অভিযান চালানো হয়। এতে সিবিএসএর সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু লক্ষণ পাওয়ার পর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি।

তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য মোট ২৪৩টি সাময়িক বসবাসের ভিসা বা ভিজিটর ভিসার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। এসব আবেদনে কানাডার নাগরিকদের আমন্ত্রণকারী বা আতিথ্যদাতা হিসেবে দেখানো হয়। সিবিএসএর অভিযোগ, ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে জাল নথিপত্র ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে একটি সংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।

কুইবেক ও অন্টারিওতে তল্লাশি

২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওতে চারটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন তদন্তকারীরা। এ সময় বিভিন্ন নথিপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এসব আলামতের ভিত্তিতে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে আসে।

সিবিএসএ জানিয়েছে, আবেদনগুলোর সংখ্যা ও তদন্তের জটিলতা বিবেচনায় সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে, এমন ৭৯টি ভিসা আবেদনকে কেন্দ্র করে মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।

কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, এক বা একাধিক ব্যক্তিকে কানাডায় প্রবেশে সহায়তার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করা, অভিবাসন আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দিতে জেনেশুনে সহায়তা করা এবং কানাডার অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে অন্যদের সহায়তা করা।

কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসঙ্গরী বলেছেন, দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। জালিয়াতির মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে ব্যবহার বা দুর্বল করার চেষ্টা করলে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে। তদন্তে কাজ করার জন্য তিনি সিবিএসএর কর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

সিবিএসএর কুইবেক অঞ্চলের আঞ্চলিক মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়া চক্রগুলোকে শনাক্ত ও তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে সংস্থাটি কাজ করছে।

আইন ভাঙলে কী হতে পারে

সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জরিমানা, কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন আইনি পরিণতি হতে পারে। তবে এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.