ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক গাড়িতে পেট্রোল, তবে বিস্ফোরক নেই
যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে RAF ফেয়ারফোর্ডের কাছে সন্দেহজনক তিনটি ভ্যান তল্লাশি করে কিছু পরিমাণ পেট্রোল পাওয়া গেছে। তবে কোনো বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কাউন্টার টেররিজম পুলিশ।
ঘটনার পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে গ্রেপ্তার পাঁচ তরুণকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং তাদের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। চারজন ওয়েস্টমিনস্টারের এবং একজন ক্যামডেনের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
রোববার ভোরে RAF ফেয়ারফোর্ডের ঠিক পূর্বদিকে অবস্থিত ওয়েলফোর্ড গ্রামে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন দেখতে পেয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা পুলিশকে খবর দেন। ওই নারী বিবিসিকে জানান, বাড়ি ফেরার সময় তিনি রাস্তা আটকে থাকা এবং হুড ও মুখোশ পরা একদল ব্যক্তিকে দেখতে পান। এরপর তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন।
খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল পাঠানো হয় এবং প্রায় ৪০০ মিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়। নিরাপত্তার কারণে ওয়েলফোর্ডের ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কাউন্টার টেররিজম পুলিশের সহকারী কমিশনার লরেন্স টেলর বলেন, পুলিশের ওই দিনের অভিযান কেবল একটি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়নি। বিভিন্ন তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
তিনি জানান, তিনটি ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে কিছু পরিমাণ পেট্রোল পাওয়া গেলেও কোনো বিস্ফোরক ডিভাইস পাওয়া যায়নি। পাঁচজনের বাড়িতেও তল্লাশি সম্পন্ন হয়েছে।
গ্রেপ্তার পাঁচজনকে প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহও যুক্ত হয়। তবে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় তাদের কঠোর শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে। তাদের চলাফেরা ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপরও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে একাধিক দিক থেকে তদন্ত চলছে। এর মধ্যে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কেউ কাজ করেছে কি না, অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো বিদেশি পক্ষের হয়ে জেনে বা না জেনে কাজ করেছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, এতে কোনো ‘বিদেশি পক্ষ’ জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাঁচজনকে জামিনে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত আগে থেকেই চলছিল।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সোমবার কোবরা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তিনি কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে অনুমাননির্ভর মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের লন্ডন দূতাবাস অবশ্য ঘটনাটির সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার যেকোনো দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
RAF ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত সামরিক কর্মকাণ্ডেও ঘাঁটিটি ব্যবহৃত হয়েছে। এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, তাদের ভূখণ্ডে হামলার জন্য ব্যবহৃত যেকোনো সামরিক ঘাঁটি তাদের বৈধ লক্ষ্য হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা বেষ্টনী বুধবার পুরোপুরি তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.