২০৩০ থেকে পেনশনের ‘ট্রিপল লক’ বদলানোর ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০১ (বুধবার)
২০৩০ থেকে পেনশনের ‘ট্রিপল লক’ বদলানোর ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ২০৩০ সালের এপ্রিল থেকে রাষ্ট্রীয় পেনশনের বর্তমান ‘ট্রিপল লক’ ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে পেনশন বৃদ্ধির হার নির্ধারণে গড় মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার বর্তমান নিয়ম পরিবর্তন করা হবে। সরকারের দাবি, এতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ দিয়ে ইংল্যান্ডে নতুন জাতীয় কেয়ার সার্ভিস গড়ে তোলা হবে।

লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেওয়া প্রথম ভাষণে বার্নহাম এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান ট্রিপল লক ব্যবস্থা চলতি পার্লামেন্টের পুরো মেয়াদে বহাল থাকবে এবং ২০৩০ সালের এপ্রিল থেকে এর পরিবর্তিত কাঠামো কার্যকর হবে।

বর্তমান ট্রিপল লক অনুযায়ী প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় পেনশন বাড়ানো হয় গড় মজুরি বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি অথবা ২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশি, সেই হারে। নতুন ব্যবস্থায় পেনশন প্রতি বছর অন্তত মূল্যস্ফীতি বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ, যেটি বেশি হবে, সেই হারে বাড়বে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পেনশনের মূল্য গড় আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে অতিরিক্ত সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তনে ২০৩৯-৪০ অর্থবছরের মধ্যে বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড এবং ২০৪৯-৫০ সালে প্রায় ৫০ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে। সরকার বলছে, এই সাশ্রয় থেকে জাতীয় কেয়ার সার্ভিস গড়ে তোলার অর্থায়ন করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে নতুন জাতীয় কেয়ার সার্ভিস চালু হলে প্রয়োজনের ভিত্তিতে বয়স্কদের ব্যক্তিগত পরিচর্যা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। খাওয়া, গোসল ও শৌচাগার ব্যবহারের মতো দৈনন্দিন ব্যক্তিগত কাজে সহায়তাও এর আওতায় থাকবে। তবে খাবার ও আবাসনের খরচ এই সেবার আওতায় থাকবে না এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্থানীয় কাউন্সিলের আর্থিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

বার্নহাম বলেছেন, নতুন কেয়ার সার্ভিস ধাপে ধাপে চালু করা হবে এবং এটি ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করা হবে না। জাতীয় কেয়ার সার্ভিস কীভাবে ও কখন গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে ব্যারনেস কেসির নেতৃত্বাধীন স্বাধীন কমিশন আগামী বছরের গ্রীষ্মে সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে পেনশনের ট্রিপল লক পরিবর্তনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজের (আইএফএস) বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় ট্রিপল লকের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ের চাপ কমবে। তবে শুধু এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সর্বজনীন সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থার পুরো অর্থায়ন করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বার্নহামের ঘোষণার পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর নেতারা পেনশন ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা করেছেন এবং কেয়ার সার্ভিসের অর্থায়নের জন্য অন্য উৎস বিবেচনার কথা বলেছেন। এসব প্রতিক্রিয়া নিয়ে লেবার সরকারের পক্ষ থেকেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ভাষণে বার্নহাম শুধু পেনশন ও কেয়ার সার্ভিস নয়, পানি, আবাসন ও জ্বালানি খাতে জনসাধারণের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান। পাশাপাশি ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার সম্ভাবনা এবং নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কারে একটি জাতীয় কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন।

নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে তিনি জানান, আগামী সাধারণ নির্বাচনের জন্য লেবার পার্টির ইশতেহারে ভোটব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি রাখার বিষয়ে তিনি কাজ করতে চান। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য শিক্ষা ও কল্যাণব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.