যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমান ঘাঁটির কাছে নাশকতার প্রস্তুতি সন্দেহে আটক ৫

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০৭ (বুধবার)
যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমান ঘাঁটির কাছে নাশকতার প্রস্তুতি সন্দেহে আটক ৫

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে মার্কিন বিমানবাহিনী ব্যবহৃত RAF ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক তিনটি যানবাহনের খবর পাওয়ার পর বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি এবং বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ খবর পায়, তিনটি সন্দেহজনক যান RAF ফেয়ারফোর্ডের দিকে যাচ্ছে। খবর পাওয়ার পর সশস্ত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং কাছের ওয়েলফোর্ড এলাকায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমে তাদের বিস্ফোরক আইনের অধীনে অপরাধের সন্দেহে আটক করা হয়। পরে কাউন্টার টেররিজম পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

পুলিশ জানায়, সন্দেহজনক যানবাহনগুলোর চারপাশে ৪০০ মিটারের একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ Explosive Ordnance Disposal বা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল যানবাহনগুলো পরীক্ষা করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওয়েলফোর্ড এলাকার প্রায় ৮৫টি পরিবারকে বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছের একটি অবসরকেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। যেসব বাসিন্দা আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের বাড়িতে থাকতে পারছেন না, তাদের জন্য রাত কাটানোর বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে। পুলিশ বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটি আপাতত ওই এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে তারা মনে করছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের আকাশচিত্রে একটি রিমোট নিয়ন্ত্রিত রোবটকে সাদা রঙের কয়েকটি ভ্যানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে। তবে রোবটটি পুলিশের ব্যবহৃত কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি।

ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল, জরুরি সেবা এবং কাউন্টার টেররিজম কর্মকর্তারা কাজ করছেন। গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রিচার্ড ওকোনে জানিয়েছেন, যানবাহন পরীক্ষা ও ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণের কাজ চলছে। তিনি জনগণকে অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থেকে সরকারি সূত্রের তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় এক নারী বিবিসিকে জানান, ভোরে তিনি বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক তৎপরতা দেখতে পান। তার দাবি, তিনি তিনটি ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকতে এবং মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখতে পান। এরপর তিনি পুলিশকে খবর দেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছিল কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

ওয়েলফোর্ডের বাসিন্দাদের অনেকে গভীর রাতে পুলিশের তৎপরতায় ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। স্থানীয় বাসিন্দা জুলিয়ান টাডসবারি জানান, সকাল ৭টার দিকে পুলিশ দরজায় এসে তাদের বাড়ি ছাড়তে বলে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ জানিয়েছিল এলাকায় একটি বড় ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তবে বিস্তারিত জানায়নি।

আরেক বাসিন্দা জানান, রাত ২টার দিকে বাইরে চিৎকারের শব্দ শুনে জানালা দিয়ে তাকিয়ে তিনি পুলিশকে কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করতে দেখেন। ঘটনাস্থলে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়।

গ্রেপ্তার পাঁচজনকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। কাউন্টার টেররিজম পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায় চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও কোনো ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কনস্টেবল ম্যাগি ব্লাইথ বলেন, তিনি মনে করেন ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

RAF ফেয়ারফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘাঁটিটির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও বিভিন্ন মার্কিন সামরিক বিমান সেখানে অবস্থান করেছে।

ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইংল্যান্ডের সাফোকের RAF লেকেনহিথ ঘাঁটির নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রাও বাড়িয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ৪৮তম ফাইটার উইং রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত রাখা হয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সন্দেহজনক যানবাহনগুলো নিরাপদভাবে পরীক্ষা করা এবং পুরো ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণ করা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.