জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধনের বিল, গণভোটের প্রস্তাবও থাকছে

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০ (বুধবার)
জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধনের বিল, গণভোটের প্রস্তাবও থাকছে

আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন সংসদে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিল আনা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশনেই বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে।

তিনি জানান, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক বিধানে পরিবর্তন আনা হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংসদে সংশোধনী পাসের পর যেসব ক্ষেত্রে গণভোটের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেসব বিষয়ে জনগণের ভোট নেওয়া হবে। গণভোটে সংশোধনীর পক্ষে রায় এলে পরবর্তী ধাপে রাষ্ট্রপতি তাতে স্বাক্ষর করবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, ১৪২ অনুচ্ছেদ বা সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধানে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে। তিনি সাংবিধানিক গণভোট ও সাধারণ কোনো আইনি বিষয়ে গণভোটের মধ্যে পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিষয়টিও সাংবিধানিক গণভোটের আওতায় রাখার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান কমিটির সভাপতি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যাতে এ-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিরোধী দল কমিটিতে যোগ দিলে তাদের প্রস্তাব ও মতামত নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবগুলো বিবেচনার সুযোগ থাকবে। সরকার গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে বিভক্তির পরিবর্তে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করতে চায় বলেও জানান তিনি।

রোববারের বৈঠকে জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন। সংবিধানের প্রস্তাবনা, বিভিন্ন অনুচ্ছেদ, তফসিল ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও মতামত পাওয়া গেছে।

কমিটির সভাপতি জানান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

কমিটির লক্ষ্য ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করা। এরপর সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিল প্রণয়ন করা হবে। সংসদে বিল নিয়ে আলোচনা, সংশোধনী ও আপত্তি নিষ্পত্তির পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংশোধনী পাস হবে। গণভোটের বাধ্যবাধকতা থাকা বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটে পাঠানো হবে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.