রাশিয়ার হুমকির পরও ইউক্রেনকে ‘১০০ শতাংশ’ সমর্থনের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:০৭ (শুক্রবার)
রাশিয়ার হুমকির পরও ইউক্রেনকে ‘১০০ শতাংশ’ সমর্থনের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যকে ‘পরিণতি’ ভোগ করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরও ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাশিয়ায় সাম্প্রতিক ইউক্রেনীয় হামলায় ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসার পর রাশিয়ার হুমকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বার্নহ্যাম বলেন, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে ‘১০০ শতাংশ’ সমর্থন করে যাবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু সুসময়ের বন্ধু নই। ইউক্রেনের প্রয়োজনের সময়ে আমরা তাদের পাশে থাকব এবং এই অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না।’

রুশ দূতাবাসের হুঁশিয়ারি

এর আগে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ দূতাবাস ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলে।

এক বিবৃতিতে রুশ দূতাবাস দাবি করে, ব্রিটেন ‘ইউক্রেন সংকটকে ইচ্ছাকৃতভাবে আরও উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে’। ইউক্রেন সংঘাতে যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, দেশটিকে তত বেশি মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

তবে রাশিয়া কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

যুক্তরাজ্যের অবস্থান

রুশ হুমকির জবাবে বার্নহ্যাম বলেন, ইউক্রেনকে আত্মরক্ষায় সক্ষম করে তুলতেই যুক্তরাজ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন করা ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের নীতি এবং তার সরকারের সময়ও এই নীতির পরিবর্তন হবে না বলে জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘অবৈধ আগ্রাসন’ থেকে আত্মরক্ষার জন্য ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে ব্রিটেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই যুক্তরাজ্য কিয়েভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক হিসেবে রয়েছে।

ব্রিটিশ অস্ত্র ও ড্রোন

সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা বেড়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তেল শোধনাগার, সরবরাহ ও লজিস্টিক কেন্দ্র এবং বড় গুদাম রয়েছে।

ব্রিটিশ সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি রুশ ভূখণ্ডে হামলায় যুক্তরাজ্যে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। ইউক্রেনকে ড্রোন সরবরাহকারী অন্তত দুটি ব্রিটিশ কোম্পানির নামও সামনে এসেছে।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করেছে এবং ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণও দিয়ে আসছে।

গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক সফর হিসেবে কিয়েভে যান বার্নহ্যাম। ওই সফরের মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত রাখার অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন তিনি।

রাশিয়ায় ইউক্রেনের ব্যাপক হামলা

রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, গত কয়েক দিনে মস্কো ও আশপাশের অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনী ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

সোমবার রাতে রাশিয়ার মস্কো অঞ্চলের দিকে প্রায় ৬২০টি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা দাবি করেন। এর মধ্যে ১৮০টির বেশি ড্রোন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে বলে জানানো হয়।

এর আগে শনিবার রাতে ইউক্রেন রাশিয়ার দিকে প্রায় ৮২২টি ড্রোন পাঠিয়েছিল বলে রুশ কর্মকর্তারা দাবি করেন। এর মধ্যে প্রায় ৬০০টি মস্কো অঞ্চলের দিকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে জানানো হয়। হামলায় রাশিয়াজুড়ে অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

রুশ কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক হামলায় রোস্তভ অঞ্চলে একটি আবাসিক এলাকায়ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মস্কো অঞ্চলে একটি বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের গুদামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনেও বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা

অন্যদিকে রাশিয়ার পাল্টা হামলায় ইউক্রেনেও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের পেচেনিহি এলাকায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১০ জন নিহত হন। এছাড়া সুমি, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলেও হামলায় আরও সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত মাসে ইউক্রেনে রুশ হামলায় ৪৩৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যা ২০২২ সালের মে মাসের পর এক মাসে সর্বোচ্চ বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা।

হরমুজ নয়, ইউরোপেও বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনা শুধু সরাসরি সামরিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন, সাইবার হামলা ও অন্যান্য সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড’ হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করছে।

জার্মান কর্মকর্তারা সম্প্রতি ইউরোপে এ ধরনের হামলার ঝুঁকিকে ‘বাস্তব ও অত্যন্ত তাৎক্ষণিক’ বলে সতর্ক করেছেন। জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে ইউক্রেন নিজস্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিও দ্রুত উন্নত করছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব ইউক্রেনের সীমান্ত ছাড়িয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে আরও গভীরে পৌঁছাচ্ছে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হুমকি এবং ব্রিটিশ তৈরি অস্ত্র ইউক্রেনের রাশিয়ায় হামলায় ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসায় মস্কো-লন্ডন উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে বার্নহ্যাম স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রুশ হুমকির কারণে ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থনে কোনো পরিবর্তন আসছে না।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.