লন্ডনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০২:৪৮ (শুক্রবার)
লন্ডনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪০ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাছুম আহমদ। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কারিকোনা গ্রামের মোহাম্মদ আমির আলীর জ্যেষ্ঠ ছেলে।

তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোররাতে পূর্ব লন্ডনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাছুম আহমদের মৃত্যু হয়। স্থানীয় সময় আনুমানিক রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাটি ঘটে বলে একটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ভোররাতে পুলিশের ফোনে পরিবারের কাছে দুঃসংবাদ

নিহতের ছোট ভাই মানিক মিয়ার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পর স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৪টার দিকে পুলিশ তাদের বাসায় যায়। পুলিশ প্রথমে বাসার পরিচয় নিশ্চিত করে এবং জানতে চায়, এটি মাছুম আহমদের বাসা কি না।

পরিবারের পক্ষ থেকে পরিচয় নিশ্চিত করার পর পুলিশ মাছুমের ছবি দেখতে চায়। ছবি দেখানোর পর পুলিশ জানায়, মাছুম আহমদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

হঠাৎ ভোররাতে পুলিশের কাছ থেকে এমন সংবাদ পেয়ে পরিবারটি চরম শোক ও হতবাক অবস্থায় পড়ে। মাছুমের মৃত্যুর কারণ বা কারা তাকে গুলি করেছে, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।

শৈশব থেকেই লন্ডনে

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাছুম আহমদ ছোটবেলা থেকেই যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনেই তাঁর জীবন ও কর্মজীবন গড়ে ওঠে। কয়েকবার দেশে এসে স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি।

মাছুম আহমদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর বাবা ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের অধিকাংশই যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন বলে জানা গেছে।

বিশ্বনাথের কারিকোনা গ্রামে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তদন্ত শুরু, এখনো গ্রেপ্তারের তথ্য নেই

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাছুম আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় Metropolitan Police তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা তাঁর শেষ চলাফেরা, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছেন।

তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সন্দেহভাজন কিংবা কোনো গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এটি পরিকল্পিত হামলা, ব্যক্তিগত বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পরিবারও বলছে, “কী কারণে মাছুমকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো জানতে পারিনি।”

নিহতের মরদেহ বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পরিবার ও স্বজনদের দাবি, দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.