এবার বন্ধু রাষ্ট্র ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের
ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওমান যদি ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো সমঝোতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইরানকে তার চাওয়া অনুযায়ী চুক্তিতে আসতে হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে দেশটিকে বিরত রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমান নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও প্রণালিটি পুনরায় খুলতে আলাদাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত রয়েছে।
ইরান-ওমান সমঝোতার দাবি
ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের একটি রুট নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে তারা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, দুই পক্ষের মধ্যে জাহাজ চলাচলের পথের একটি কাঠামো নিয়ে বোঝাপড়া হয়েছে। চূড়ান্ত বিষয়গুলো নির্ধারণের পর যৌথ বিবৃতি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তবে এই সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ওমান দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। চলমান সংঘাতেও দেশটি নিজেকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছে। হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে ওমানের অবস্থান হওয়ায় প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
মার্কিন-ইরান সমঝোতার মেয়াদ শেষ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত জুনে করা ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ সোমবার শেষ হয়েছে। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালিতে অন্তত আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা।
তবে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় সমঝোতাটি কার্যত ভেঙে পড়ে। সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি ওই সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন না।
ইরানের কাছে আত্মসমর্পণের আহ্বান
ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানকে তার শর্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি একটি গোপন যোগাযোগের পথ রয়েছে। তবে আইআরজিসি এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না এবং ট্রাম্পের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ওমানকে হুমকি নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র ওমানকে প্রকাশ্যে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন রাজনীতিতেও এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সিনেটর টিম কেইন ট্রাম্পের ওমানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে War Powers Resolution আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করছে। প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ এবং পরিবহন ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তার ভাষায়, ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকানোই তার প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.