দীর্ঘ ২ যুগ পর ইরাক থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫২ (শনিবার)
দীর্ঘ ২ যুগ  পর ইরাক থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরাকে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করার বিষয়ে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের পরিকল্পনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর ৩০ সেপ্টেম্বরকে ইরাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস)বিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ করার ‘নির্ধারিত ও চূড়ান্ত’ সময়সীমা হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন। মার্কিন এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেনা প্রত্যাহার শেষ করার প্রস্তুতি চলছে। 

এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটবে। তবে এটি প্রথমবার নয় যে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে মার্কিন যুদ্ধরত সেনাদের বড় ধরনের প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে আইএসের উত্থানের পর ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন বাহিনী আবার দেশটিতে ফিরে আসে। 

২০০৩ সালের ১৯ মার্চ সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। ওই বছরের ডিসেম্বরেই সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

২০১১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মার্কিন যুদ্ধরত সেনাদের ইরাক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও আইএসের উত্থানের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবার পরিবর্তিত হয়। ২০১৪ সালে আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক জোট গঠিত হয়।

পরবর্তী সময়ে ইরাকে আইএসের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড পুনর্দখল করা হলেও মার্কিন সেনাদের একটি সীমিত অংশ ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও আইএসবিরোধী অভিযানে সহায়তা করে আসছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা অনেক কমে যায়। একসময় ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনা সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি ছিল। বর্তমানে সেখানে কতজন মার্কিন সেনা রয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। 

ইরবিল থেকে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরানোর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে ইরাকি কুর্দিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে এই সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইএসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে ইরাক, যুক্তরাষ্ট্র ও জোটভুক্ত দেশগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী, কুর্দিস্তান অঞ্চলের পেশমার্গাসহ স্থানীয় বাহিনীই দেশটির ভেতরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেবে। 

তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইরাকি সরকার বিদেশি সেনা চলে যাওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন সশস্ত্র অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীকে অস্ত্র ত্যাগের জন্য একই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। তবে ইরান-সমর্থিত কয়েকটি শক্তিশালী মিলিশিয়া গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণে অনাগ্রহী হওয়ায় বিষয়টি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। 

ইরাকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হলেও দুই দেশের নিরাপত্তা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ ধাপে ধাপে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী সামরিক মিশন শেষ করে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা অংশীদারত্বে যাওয়ার পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছিল। 

২৩ বছর আগে যে সামরিক অভিযান সাদ্দাম হোসেনের শাসনের পতন ঘটিয়েছিল, তার দীর্ঘ প্রতিক্রিয়ার পর এবার ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির শেষ অধ্যায়ও সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহার শেষ হলে ১ অক্টোবর থেকে ইরাকে মার্কিন সেনাদের আর কোনো সামরিক উপস্থিতি থাকবে না বলেই বর্তমান পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.