শিক্ষাঙ্গনে ফের অস্থিরতা, ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে উত্তপ্ত একাধিক ক্যাম্পাস

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:২২ (শুক্রবার)
শিক্ষাঙ্গনে ফের অস্থিরতা, ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে উত্তপ্ত একাধিক ক্যাম্পাস

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাঙ্গনে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে শিবির-সমর্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েকজন সংবাদকর্মীও হামলার শিকার হন।

পরে আহতদের দেখতে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জড়ো হলে সেখানে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর ঢাকা কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায়। এসব প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষও হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে। সেখানে একটি কক্ষকে কেন্দ্র করে দুই বহিরাগতকে নিয়ে বিতর্কের জেরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিষয়টি অন্যান্য ক্যাম্পাসেও ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলাই প্রদর্শনীতে’ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে বাম ও প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানায়। প্রশাসনের নির্দেশে পরে সেই ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। একই ইস্যুতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পর দেশের শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের সহিংসতা উদ্বেগজনক। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি সেই সুযোগ নিতে পারে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংলাপ ও সহনশীলতার বিকল্প নেই।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, সরকারের ছাত্রসংগঠনের আগ্রাসী আচরণের কারণেই শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান পাল্টা দাবি করেন, শিক্ষাঙ্গনে সংঘাত সৃষ্টি করে সরকারবিরোধী শক্তিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।

শিক্ষাঙ্গনে টানা সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.