স্কটল্যান্ডে ১৫ বছরের কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ, তরুণের আজীবন নজরদারিসহ কারাদণ্ড
স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় বাসস্টপ থেকে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ছুরির মুখে অপহরণ করে একটি ভবনের বেসমেন্টে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী অ্যারন স্ট্র্যাচানকে আজীবন নজরদারিসহ বিশেষ কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির হাই কোর্ট।
সোমবার (২৭ জুলাই) দেওয়া রায়ে আদালত জানান, স্ট্র্যাচানকে ন্যূনতম পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হবে। তবে এই সময় শেষ হলেই তিনি মুক্তি পাবেন না। জনসাধারণের জন্য আর ঝুঁকিপূর্ণ নন বলে স্কটল্যান্ডের প্যারোল বোর্ড নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হবে। প্রয়োজনে তিনি সারাজীবনও কারাগারে থাকতে পারেন।
বাসস্টপ থেকে অপহরণ
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মে ভোরে এডিনবরার লোথিয়ান রোড এলাকার একটি বাসস্টপে অপেক্ষা করছিলেন ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরী।
এ সময় মুখোশ পরিহিত অ্যারন স্ট্র্যাচান তার কাছে এগিয়ে আসেন। আতঙ্কিত কিশোরী সেখান থেকে প্রিন্সেস স্ট্রিটের আরেকটি বাসস্টপে চলে গেলেও অভিযুক্ত তাকে অনুসরণ করেন।
পরে ছুরি দেখিয়ে মোবাইল ফোন দিতে বলেন এবং চিৎকার না করার হুমকি দেন। এরপর কিশোরীর কাঁধ চেপে ধরে ইয়র্ক প্লেস এলাকার একটি ভবনের নিচতলার সংরক্ষণাগারে (বেসমেন্ট) নিয়ে যান। সেখানে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে অস্থায়ী বিছানায় তাকে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে খুঁজে বের করে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়।
আগেও ছিল সহিংসতার অভিযোগ
আদালতে জানানো হয়, ধর্ষণের কয়েক ঘণ্টা আগেই স্ট্র্যাচান আরেক ব্যক্তির হাতে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেছিলেন। এছাড়া কয়েকদিন পর আরেক ব্যক্তির মাথায় ক্ল-হ্যামার (নখযুক্ত হাতুড়ি) দিয়ে হামলার ঘটনাতেও তিনি দোষ স্বীকার করেছেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, সহিংসতা, ডাকাতি ও অস্ত্র রাখাসহ একাধিক অপরাধের আগের রেকর্ডও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আদালত থেকে পালানোর চেষ্টা
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাজা ঘোষণার আগে আদালত ভবন থেকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন স্ট্র্যাচান। হাতকড়া খুলে রয়্যাল মাইল এলাকায় দৌড়ে পালিয়ে গেলে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
‘দুঃস্বপ্নের মতো’ অপরাধ
রায় ঘোষণার সময় বিচারক মাইকেল ও'গ্র্যাডি বলেন, স্ট্র্যাচানের অপরাধ ছিল "দুঃস্বপ্নের মতো ভয়াবহ"।
তিনি বলেন, অভিযুক্তের সহিংস আচরণ এবং মানসিক সমস্যার কারণে জননিরাপত্তার জন্য তিনি গুরুতর ঝুঁকি। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে অর্ডার ফর লাইফলং রেস্ট্রিকশন (OLR) জারি করা হয়েছে।
পরিবারের অসন্তোষ
রায়ে ন্যূনতম পাঁচ বছরের সাজা ঘোষণার অংশ শুনে আদালতকক্ষে উপস্থিত ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে বিচারক স্পষ্ট করেন, পাঁচ বছর কেবল আইনি ন্যূনতম মেয়াদ। এরপরও প্যারোল বোর্ডের অনুমতি ছাড়া অভিযুক্তের মুক্তির কোনো সুযোগ নেই।
কী এই OLR?
অর্ডার ফর লাইফলং রেস্ট্রিকশন (OLR) স্কটল্যান্ডের একটি বিশেষ দণ্ডব্যবস্থা, যা গুরুতর যৌন ও সহিংস অপরাধীদের জন্য প্রয়োগ করা হয়।
এ ধরনের সাজায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ন্যূনতম সাজা ভোগের পরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্তি পান না। প্যারোল বোর্ড সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হয়। মুক্তি পেলেও সারাজীবন কঠোর নজরদারির আওতায় থাকতে হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, OLR-এ দণ্ডিতদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক ব্যক্তি এখন পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.