সিলেটে ভুয়া এনজিও কাণ্ড: এআরডির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
আবুল কাশেম রুমন: সিলেটে "এআরডি (অ্যাসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট)" নামের একটি এনজিও সংস্থার চেয়ারম্যান কাজি আলমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ জুলাই সংস্থার জাফলং শাখার ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসেন সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
যেভাবে শুরু হয়েছিল
অভিযোগকারী জানান, এআরডি মূলত একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে গোলাপগঞ্জ উপজেলার সমাজসেবা অফিস থেকে নিবন্ধিত হয়েছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান কাজি আলম এটিকে এনজিও সংস্থায় রূপান্তরিত করে মাইক্রোক্রেডিট কার্যক্রম শুরু করেন এবং সিলেটের বেশ কয়েকটি উপজেলায় একাধিক শাখা খোলেন।
মাইক্রোক্রেডিট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ফাঁকি
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) নির্ধারিত সর্বোচ্চ সার্ভিস চার্জ ১২.৫% হলেও সদস্যদের কাছ থেকে ১৫% আদায় করা হচ্ছে। সফটওয়্যারে অবশ্য দেখানো হচ্ছে ১২.৫%, যাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজর এড়ানো যায়। শুধু তাই নয়, এমআরএ-বহির্ভূত ঋণ কার্যক্রমে ১৫ থেকে ১৭% পর্যন্ত সুদ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি শাখায় দুই ধরনের হিসাবের বই, দুটি সফটওয়্যার এবং দুই ধরনের পাসবই ব্যবহার করা হচ্ছে — একটি এমআরএকে দেখানোর জন্য এবং অন্যটি প্রকৃত লেনদেনের জন্য।
ভুয়া ক্লিনিকের নামে অর্থ আত্মসাৎ
অভিযোগে বলা হয়, "এআরডি মা ও শিশু ক্লিনিক" নামে সদস্যদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হেলথ কার্ড ফি নেওয়া হচ্ছে। অথচ এই নামে সংস্থার কোনো প্রতিষ্ঠান নেই এবং সদস্যরা কোনো স্বাস্থ্যসেবাও পাচ্ছেন না। আদায় করা এই অর্থ শাখায় জমা না করে নির্বাহী পরিচালক নগদে নিজে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুয়া ঋণ বিতরণ দেখিয়ে কাগজ সাফ
এমআরএকে সঠিক তথ্য দেওয়ার ভান করতে প্রতি বছরের মে, জুন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে লাখ লাখ টাকার ভুয়া ঋণ বিতরণ দেখানো হয়। রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর ওই ঋণ নানাভাবে সমন্বয় করা হয়। জাফলং শাখায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার মোটরসাইকেল ঋণ কাগজে দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো ঋণ দেওয়া হয়নি এবং মোটরসাইকেলও কেনা হয়নি।
অননুমোদিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম
এমআরএর অনুমোদন ছাড়াই জাফলং, শাহপরান, কদমতলী ও ফেঞ্চুগঞ্জ শাখায় টিভি, ফ্রিজ, এসিসহ ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রির পাশাপাশি এফডিআর ও ডিপিএস গ্রহণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগকারীর বক্তব্য
জাফলং শাখার ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসেন জানান, এপ্রিল ২০২৬ থেকে তিনি অনিয়মে অংশ নিতে অস্বীকার করলে নির্বাহী পরিচালক আগের ভুয়া ঋণের দায় তাঁর ওপর চাপিয়ে মিথ্যা অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, সফটওয়্যার রিপোর্ট, কালেকশন শিট ও লেজার পরীক্ষা করলেই প্রমাণিত হবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তিনি এমআরএ কর্তৃপক্ষকে সংস্থার সকল শাখার সার্বিক কার্যক্রম অডিট ও মনিটরিং করার দাবি জানিয়েছেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.