জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত, একজন নিখোঁজ

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০৩:২৮ (শনিবার)
জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত, একজন নিখোঁজ

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সেন্টকমের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। আহত আরও চার সেনাকে জর্ডানের হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা শেষে তারা ছাড়পত্র পেয়েছেন। সামান্য আহত অন্য সেনারা আবারও দায়িত্বে ফিরেছেন। নিহত সেনাদের পরিচয় এবং হামলার নির্দিষ্ট স্থান নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ করা হয়নি।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। এর আগে চলতি মাসে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার রাতভর দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে অন্তত দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি এবং এ বিষয়ে সেন্টকম অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানকারীদের, সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে উল্লেখ করে সবাইকে সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ভেঙে পড়ে। এরপর নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হয়। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দর অবরোধ কার্যকর করে, অন্যদিকে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেন, ওয়াশিংটনের পদক্ষেপে সংঘাত আরও বাড়ছে এবং এর জবাব ইরান দেবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.