বিদায়ের আগে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ১৫ বিলিয়ন বরাদ্দ কিয়ার স্টারমারের

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৩৮ (শুক্রবার)
বিদায়ের আগে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ১৫ বিলিয়ন বরাদ্দ কিয়ার স্টারমারের

যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার দেশের প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই অর্থ নতুন করে ঋণ নিয়ে নয়, বরং বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট কমিয়ে জোগান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার প্রকাশিত ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (DIP)-এ বলা হয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ৮০ বিলিয়ন পাউন্ডে উন্নীত করা হবে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য রাশিয়ার সামরিক হুমকি, ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ন্যাটোর নতুন প্রতিরক্ষা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা।

স্টারমার বলেন, "দেশের নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। কিছু প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোবে না, কিন্তু আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করতেই হবে।"

তবে পরিকল্পনা প্রকাশের পরই জানা গেছে, পুরো অর্থের ব্যবস্থা এখনও হয়নি। ট্রেজারি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মাত্র ১০.৩ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের উৎস নিশ্চিত করা গেছে। বাকি ৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ডের ব্যবস্থা করতে হবে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে।

স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে লেবার পার্টির নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা থাকা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ওপরই সেই দায়িত্ব পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

কোন কোন খাতে কাঁটছাঁট?

প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অর্থ জোগাড় করতে কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পে কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে:

• পরিবহন খাত থেকে অতিরিক্ত ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড কমানো হবে। ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।

• জ্বালানি নিরাপত্তা ও নেট জিরো বিভাগ থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড কমানো হবে।

• অন্যান্য সরকারি বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাজেটেও প্রায় ১ শতাংশ করে কাটছাঁট করা হবে।

প্রতিরক্ষায় কোথায় ব্যয় হবে?

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন অর্থ ব্যয় হবে:

• পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারে ৬৪ বিলিয়নের বেশি পাউন্ড।

• নতুন সাবমেরিন ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন F-35A যুদ্ধবিমান ক্রয়ে।

• ড্রোন প্রযুক্তির জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড।

• জাপান ও ইতালির সঙ্গে যৌথভাবে পরবর্তী প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান (GCAP) প্রকল্পে ৮ বিলিয়নের বেশি পাউন্ড।

• রয়্যাল নেভির জন্য ছয়টি নতুন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধব্যবস্থা উন্নয়নে।

• রয়্যাল এয়ার ফোর্সের জন্য স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধবিমান ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ড্রোন।

একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১১ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের পরিকল্পনাও করেছে। এজন্য বেসামরিক জনবল কমানো, পরামর্শক ব্যয় হ্রাস এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে।

কিছু প্রকল্প বাতিল

নতুন পরিকল্পনায় কয়েকটি পুরোনো সামরিক প্রকল্পও বাতিল করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে:

• স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি

• নতুন সামরিক স্যাটেলাইট প্রকল্প

• ওয়াইল্ডক্যাট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার, যার পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি আনা হবে।

সমালোচনাও শুরু

স্টারমারের পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টি বলেছে, এটি "খুব কম এবং অনেক দেরিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত"। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, সরকারের অর্থ বরাদ্দ এখনও দেশের প্রতিরক্ষা প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে পরিকল্পনাটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা পুরো জোটের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।

স্টারমারের বিদায়ের আগে ঘোষিত এই পরিকল্পনা আগামী সরকারের জন্য বড় আর্থিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.