‘এ বছরই দেশে ফিরব’—শেখ হাসিনার ঘোষণায় তোলপাড়

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬ ২০:৩৩ (শুক্রবার)
‘এ বছরই দেশে ফিরব’—শেখ হাসিনার ঘোষণায় তোলপাড়

প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবার দেশে ফেরার বিষয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সব ধরনের রাজনৈতিক বাধা, ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে চলতি বছরই বাংলাদেশে ফিরবেন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার দেশে ফেরা ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়। বরং এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অংশ।

তিনি বলেন, "আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতি করি বাংলাদেশের মানুষের জন্য, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য।"

নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলা, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং রাজনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, এসব তাকে ভীত করেনি। তিনি স্মরণ করেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড, যেখানে তিনি পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হারান, এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কথাও উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, "আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে এ বছরই আমি আমার দেশে ফিরব।"

‘আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা যাবে না’

দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, মাটি ও মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি।

তিনি বলেন, গত ৭৭ বছরের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ বহুবার হামলা, নিষেধাজ্ঞা ও সংকটের মুখে পড়েছে। কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ফিরে এসেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

শেখ হাসিনার দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। এটিকে তিনি দলের পুনর্জাগরণের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

‘বাংলাদেশের মৌলিক চরিত্র বদলে দেওয়া হয়েছে’

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর দেশের মৌলিক রাষ্ট্রীয় দর্শন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত এসেছে।

তার দাবি, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, মন্দির, সুফি দরগাহ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে। এসবের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দুর্বল রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘গোপন সমঝোতার প্রশ্নই আসে না’

বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো গোপন সমঝোতা হয়েছে বলে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়। দলটি জনগণের সমর্থন এবং সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতেই রাজনীতি করবে।

‘আমার হৃদয় এখনো বাংলাদেশেই’

ভারতে অবস্থান করলেও প্রতিদিন বাংলাদেশের পরিস্থিতির খোঁজ রাখেন বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তার হৃদয় এখনো বাংলাদেশেই পড়ে আছে, যেখানে রয়েছে তার বাবার সমাধি, পরিবারের স্মৃতি এবং কোটি মানুষের ভালোবাসা।

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে শেখ হাসিনা বলেন, "আমার শক্তি বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং জাতির পিতার আদর্শ। সেই শক্তি নিয়েই আমি সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের শক্তিতেই আওয়ামী লীগ আবার ঘুরে দাঁড়াবে এবং আমি সেই সংগ্রামের সঙ্গেই থাকব।"

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.