ড. ইউনূসের আমলে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন

প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬ ০৫:০৪ (শুক্রবার)
ড. ইউনূসের আমলে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে এক বছরে দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে প্রায় ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’-এর ফলাফল প্রকাশ করে এ তথ্য জানানো হয়।

টিআইবির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ জরিপ পরিচালিত হয়েছে, যা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সেবা খাতে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছে।

জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও সবচেয়ে বেশি ঘুষের অভিযোগ এসেছে পাসপোর্ট সেবা (৭৬.৬ শতাংশ) এবং বিআরটিএ (৬৩.৫ শতাংশ) থেকে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভূমি, কৃষি ও বিচারসেবা খাতেও ঘুষ ও অনিয়মের উচ্চ হার পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২৪ টাকা, যা আগের জরিপের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। তবে জরিপে অংশ নেওয়া ৮১.৫ শতাংশ পরিবারের মতে, ঘুষ ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া এখনো অত্যন্ত কঠিন।

টিআইবির জরিপে আরও উঠে এসেছে, দুর্নীতির শিকার হওয়া ৬১.৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগই করেনি। তাদের অনেকের ধারণা, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত। আবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ জানেন না কোথায় বা কীভাবে অভিযোগ করতে হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারীরা বিচারহীনতা, জবাবদিহিতার অভাব এবং দুর্নীতিবাজদের শাস্তির পরিবর্তে সুবিধা পাওয়াকে দুর্নীতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া গ্রামাঞ্চলের মানুষ শহরের তুলনায় বেশি ঘুষের শিকার হলেও, শহরে ঘুষের অঙ্ক তুলনামূলক বেশি। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোও তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল সেবা চালু হলেও অনেক ক্ষেত্রে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমেনি। ফলে সেবা খাতে ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ এখনো বহাল রয়েছে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.