যুক্তরাজ্যে হাসনাত সহ এনসিপির ৪ নেতার বিরুদ্ধে মামলা, আটক ১
যুক্তরাজ্যে এক যুবকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ একাধিক নেতার নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই ঘটনায় এনসিপি নেতা জাকির চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগকারী জুবায়ের আহমদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে কর্মরত জুবায়ের জানান, বিকেল ৪টার দিকে কাজ শেষে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি গাড়ির পিছু নিয়ে একটি গ্রামীণ সড়কের দিকে গেলে গাড়িটি থেমে যায়, এবং সেখান থেকে প্রায় আট জন ব্যক্তি নেমে এসে তাকে আক্রমণ করে বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় একজন ছোট ছুরি দিয়ে আঘাত করায় তার পেটে জখম হয় বলে জুবায়ের নিজেই জানিয়েছেন।
জুবায়েরের দাবি, হামলার সময় তার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ হচ্ছিল বুঝতে পেরে হামলাকারীরা ফোনটি কেড়ে নেয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্রিটিশ নারী পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং আহত জুবায়েরকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই নারী পরে পুলিশের কাছে তার পক্ষে সাক্ষ্যও দিয়েছেন।
এই ঘটনাটিই গত দুই দিনের আলোচিত মামলা-বিতর্কের নেপথ্যে থাকা মূল ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার রাতে কেমব্রিজ থানায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগে হাসনাত আবদুল্লাহ, এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী ও শাহীন আলমের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়, যা নিয়ে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স দাবি করেছিল যে এটি " আওয়ামী লীগ"-এর করা মামলা। তবে মূল ঘটনা হলো, মামলার ভিত্তি ছিল জুবায়ের আহমদ নামের একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগ, যা যুক্তরাজ্যের আইনি প্রক্রিয়ার সাধারণ নিয়মের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ—যেখানে কোনো ব্যক্তি বা ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে, কোনো দল সরাসরি মামলা করতে পারে না।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ জাকির চৌধুরীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মো. এম এ হিমেল দাবি করেছেন, এই অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। তার ভাষায়, যুক্তরাজ্যে দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে হয়রানি ও অপপ্রচারের চেষ্টা চলছে, যার মাধ্যমে পুলিশি প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষ বলছে, এটি একটি গুরুতর হামলার ঘটনা এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পুরো ঘটনা নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলমান। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত সপ্তাহে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল ও এলেম পার্ক এলাকায় হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে দুটি পৃথক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে, যেখানে আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার নেতাকর্মীদের ডিম নিক্ষেপের অভিযোগে অন্তত তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.