কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার ৩৭ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬ ১২:২৩ (শনিবার)
কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার ৩৭ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৭ জন বাংলাদেশি অবশেষে দেশে ফিরেছেন। 

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা দেশে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাদের জরুরি সহায়তা ও বাড়ি ফেরার অর্থ সহায়তা দেয় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

ফেরত আসা ভুক্তভোগীরা জানান, বিদেশে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বৈধ প্রক্রিয়ায় তাদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালাল চক্রের মাধ্যমে তাদের চীনা নিয়ন্ত্রিত সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে হস্তান্তর করা হয়। কম্পাউন্ডগুলোতে তাদের জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কাজে নিযুক্ত করা হতো — বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত স্ক্যাম অভিযানে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে এই বাংলাদেশিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কম্বোডিয়ার ১৮টি শহর ও প্রদেশে ১১৮টি স্ক্যাম কম্পাউন্ডে অভিযান চালিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। 

এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আট জন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তাদেরও চাকরির প্রলোভনে থাইল্যান্ড সীমান্ত হয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, পরে পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে সাইবার জালিয়াতির কাজে বাধ্য করা হয়।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৫ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়ে কম্বোডিয়া গেছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে কতজন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকা পড়েছেন তার কোনো সরকারি হিসাব নেই। 

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম মানবপাচারের ভয়াবহ একটি নতুন রূপ। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। তিনি সরকারকে বিদেশগামী কর্মীদের চাকরি আরও কঠোরভাবে যাচাই করার এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান।

থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার বিষয়ে সরকার ও ব্র্যাকের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.