সিলেট-চারখাই-শেওলা চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পে ব্যয় কমল ৬০০ কোটি টাকা

প্রকাশিত: ০৫ জুন, ২০২৬ ০২:৩১ (রবিবার)
সিলেট-চারখাই-শেওলা চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পে ব্যয় কমল ৬০০ কোটি টাকা

সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় কমেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সম্প্রতি প্রকল্পটির পূর্তকাজের জন্য ২ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদন দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়নে পূর্বে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। তবে দরপত্র মূল্যায়ন শেষে প্রায় ২০ শতাংশ কম মূল্যে কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর পর্যন্ত ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল একনেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নানা কারণে কাজ শুরু না হওয়ায় মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

প্রকল্পের আওতায় মহাসড়ক উন্নয়ন কাজ তিনটি পৃথক লটে বাস্তবায়ন করা হবে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মনিকো লিমিটেড ও চায়না রেলওয়ে নম্বর-৪ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন এবং এনডিই-আরবিসিজি যৌথ উদ্যোগ।

প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২৪৭ একরের বেশি ভূমি অধিগ্রহণ, প্রায় ৪৩ কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণ, ৩টি সেতু, ৩টি ফ্লাইওভার, ৬টি ওভারপাস, ৫টি আন্ডারপাস, ৪টি ফুটওভার ব্রিজ, ৩১টি কালভার্ট এবং একটি টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার, চারখাই ও হেতিমগঞ্জ বাজার এলাকায় পৃথক দুটি ৩০০ মিটার ফ্লাইওভার এবং রানাপিং ও রামধা বাজার এলাকায় আরও দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। শেওলা সীমান্ত এলাকায় কুশিয়ারা নদীর ওপর বিদ্যমান সেতুর পাশে নতুন চার লেনের সেতুও নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক উৎপল সামন্ত জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না বলেই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই মূল নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহিদ হাসান বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যাদেশ দেওয়া হবে। তবে ব্যয় কমলেও প্রকল্পের মূল নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম জানান, ভূমি অধিগ্রহণের কাজ কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আগামী আগস্টের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা এবং মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়াসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবুল কাশেম রুমন

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.