লাখো মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় গ্রামের মাটিতে চিরনিদ্রায় তোফায়েল আহমেদ

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬ ২৩:৪৭ (মঙ্গলবার)
লাখো মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় গ্রামের মাটিতে চিরনিদ্রায় তোফায়েল আহমেদ

বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নেতা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ। 

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় নিজ গ্রামের বাড়ির সামনে তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, স্বজন ও ভোলাবাসীর ঢল নামে। পরে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে নেওয়া হলে বাবা আজহার আলী, মা ফাতেমা বেগম ও স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে ঘিরে পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। ভোলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসেন প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর ব্যবস্থা।

এর আগে দুপুরে তার মরদেহবাহী হেলিকপ্টার ভোলায় পৌঁছালে সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম জানাজার আগে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

স্থানীয়রা বলেন, তোফায়েল আহমেদ শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভোলার মানুষের আপনজন। মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান ও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার ভূমিকা জাতি দীর্ঘদিন স্মরণ রাখবে। ভোলার উন্নয়নেও তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া তোফায়েল আহমেদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ডাকসুর ভিপি হিসেবে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মন্ত্রী ও নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.