ইবোলা ভাইরাসের টিকা তৈরি করছে অক্সফোর্ড
আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া বিরল প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস মোকাবিলায় নতুন টিকা তৈরি করছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই মানবদেহে এ টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৭৫০টির বেশি সন্দেহভাজন আক্রান্ত এবং অন্তত ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশটিতে ঝুঁকির মাত্রা “উচ্চ” থেকে “অত্যন্ত উচ্চ” পর্যায়ে উন্নীত করেছে সংস্থাটি।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্ডিবুগিও’ নামের বিরল ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত কার্যকর টিকা নেই। আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তারা কোভিড-১৯ মহামারির সময় ব্যবহৃত প্রযুক্তির ভিত্তিতেই নতুন এ টিকা তৈরি করছেন। ‘চ্যাডঅক্স-১’ নামে পরিচিত এই প্রযুক্তি দ্রুত নতুন ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।
গবেষকরা জানান, শিম্পাঞ্জির শরীরে সংক্রমণ ঘটায় এমন এক ধরনের পরিবর্তিত ভাইরাসকে নিরাপদভাবে ব্যবহার করে মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এতে সরাসরি ইবোলা সংক্রমণ হবে না, তবে শরীর ভাইরাস চিনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিখবে।
অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের অধ্যাপক টেরেসা ল্যাম্ব বলেন, “পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে ধরে নিয়েই আমরা দ্রুত কাজ করছি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলেও প্রস্তুতি থামানো যাবে না।”
এদিকে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যে সম্ভাব্য টিকাটি বড় পরিসরে উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখনো প্রাণীর ওপর পরীক্ষার ফল পাওয়া যায়নি। তাই টিকাটি কার্যকর হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা ও মানবদেহে পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলার টিকা সাধারণ মানুষের জন্য গণহারে প্রয়োগ করা হয় না। বরং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষ এবং চিকিৎসাকর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হয়, যাকে বলা হয় “রিং ভ্যাকসিনেশন” পদ্ধতি।
উল্লেখ্য, বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস এর আগে ২০০৭ সালে উগান্ডা এবং ২০১২ সালে কঙ্গোতে দেখা গিয়েছিল। গত এক দশকের বেশি সময় পর এবার আবারও এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিল।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.