ঢাকায় সাংবাদিকদের ফোন করে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাচ্ছে পুলিশ!
রাজধানীতে কর্মরত একাধিক সাংবাদিককে ফোন করে রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, এমনকি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পর্যন্ত চাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাংবাদিক মহলে। পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্য পরিচয়ে এসব তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চের (সিএসবি) নামে বিভিন্ন থানার মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা সরাসরি ফোন করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, পারিবারিক তথ্য, অতীত কর্মকাণ্ডসহ নানা ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাইছেন। কেউ কেউ বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করতে চাপ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে কথাবার্তার ধরন ছিল আক্রমণাত্মক ও ভীতিকর।
বিষয়টিকে সাংবাদিকদের ওপর “অঘোষিত নজরদারি” হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রশ্ন, একটি নির্বাচিত সরকারের সময়ে সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজে বের করার প্রয়োজন কেন দেখা দিল? সমালোচকদের মতে, এটি সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং ভিন্নমত পর্যবেক্ষণের নতুন কৌশল হতে পারে।
সাংবাদিক নেতারা বলছেন, কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থা চাইলে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় তথ্য চাইতে পারে। কিন্তু পুলিশ সদস্য পরিচয়ে ব্যক্তিগত ফোন, বাসায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কিংবা রাজনৈতিক বিশ্বাস জানতে চাওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত।
একাধিক সাংবাদিক জানান, তাদেরকে বলা হয়েছে বাসায় সাক্ষাতের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি ও বিদ্যুৎ বিলের কপি প্রস্তুত রাখতে। কেউ কেউ এটিকে “প্রচ্ছন্ন হুমকি” হিসেবেও দেখছেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতারা বলছেন, সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হওয়ায় সন্দেহ আরও বাড়ছে। অনেকের মতে, অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময় যেভাবে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই স্মৃতিকেই আবার সামনে নিয়ে আসছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগ স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বা স্পেশাল ব্রাঞ্চের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাধারণত এ ধরনের তথ্য গোয়েন্দা পর্যায়ে সংগ্রহ করা হয়, সরাসরি সাংবাদিকদের ফোন করে নয়। মাঠ পর্যায়ে কেউ এমনটি করে থাকলে সেটি “দুঃখজনক” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিক সমাজের প্রশ্ন, স্বাধীন গণমাধ্যমের নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার কেন এখন সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজতে ব্যস্ত? এই ঘটনার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.