এ-লেভেল-ও-লেভেল পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে পাকিস্তান

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬ ১২:১৬ (মঙ্গলবার)
এ-লেভেল-ও-লেভেল পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে পাকিস্তান

বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল পরীক্ষাতেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘এ’ লেভেল ও ‘ও’ লেভেলের একাধিক পরীক্ষার প্রশ্ন অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক একটি চক্র কাজ করছে, যার সূত্র মিলছে পাকিস্তানে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, গত দুই মাসে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের অন্তত তিনটি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ লেভেল গণিতের দুটি পরীক্ষার প্রশ্ন অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে পরীক্ষা স্থগিত করে কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ।

গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ‘এ’ লেভেল গণিত ১২ (৯৭০৯) পরীক্ষা। পরে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নতুন প্রশ্নপত্রে আগামী ৯ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একইভাবে ১৫ মে নির্ধারিত ‘গণিত পেপার ৩২’-এর প্রশ্নও ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত স্কুলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

শুধু চলতি বছর নয়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও কেমব্রিজের একাধিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এর আগে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা আইইএলটিএস নিয়েও বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের তদন্তে উঠে আসে, বাংলাদেশ, চীন ও ভিয়েতনামে প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী ভুয়া স্কোর নিয়ে বিদেশে গেছেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশ্নপত্র প্রথমে পাকিস্তান থেকে ফাঁস হয়ে অনলাইনের গোপন নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়। আন্তর্জাতিক এই চক্রকে শনাক্তে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪০০ ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ কেমব্রিজ কারিকুলাম অনুসরণ করে। প্রতিবছর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ‘ও’ ও ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপের মুখে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

অনেক শিক্ষার্থী বলছেন, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর হঠাৎ পরীক্ষা বাতিল হওয়া বা পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, আন্তর্জাতিক পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরামের নেতারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁস হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে এখন আন্তর্জাতিক পরীক্ষাও ঝুঁকির বাইরে নয়। প্রশ্নপত্র নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সুরক্ষা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

এদিকে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র চুরির ঘটনাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে তদন্তও চলছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.