আওয়ামী লীগ ফিরে আসার ২০টি কারণ তুলে ধরলেন মাহফুজ আলম
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের এক বিস্ফোরক ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগকে নিয়ে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেছেন, মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো বড় কর্মসূচি না থাকলেও “মনস্তাত্ত্বিকভাবে লীগ অনেক আগেই ফিরে এসেছে”।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে মাহফুজ আলম বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।
সাবেক এই উপদেষ্টা লেখেন, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি “ধর্মতত্ত্ব”, যার প্রতি মানুষের একধরনের “ইমান” বা বিশ্বাস আবারও ফিরে এসেছে। তিনি দাবি করেন, দেশের বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, মব সংস্কৃতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক আপসের কারণেই লীগের পুনরুত্থানের পথ তৈরি হয়েছে।
স্ট্যাটাসে তিনি ২০টিরও বেশি কারণ তুলে ধরে বলেন, আইনের শাসনের পরিবর্তে যখন “মবের শাসন” প্রতিষ্ঠিত হয় এবং উগ্রবাদীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তখনই লীগের ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একইসঙ্গে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে দাঁড় করানো, ধর্মনিরপেক্ষ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানও আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের সংকট নিয়েও সরব হন মাহফুজ আলম। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়ে “আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট”-এর হাতে চলে যায়। তার ভাষায়, ওই কিচেন ক্যাবিনেটের অনেকেই বিএনপি, জামায়াত কিংবা লীগের “গোপন দালাল” হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কমিশন, ট্রাইব্যুনাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে “নির্দিষ্ট মতাদর্শের লোকদের” বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাহফুজ আলম। তার দাবি, ছাত্র রাজনীতি গণতান্ত্রিক ধারায় না গিয়ে “মব সংস্কৃতি” ও “সংঘতন্ত্রে” পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বিভাজন তৈরি এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও লীগের পুনরুত্থানে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তিনি ইঙ্গিত দেন, সামনে আরও “ভেতরের গল্প” প্রকাশ করবেন। বিশেষ করে নতুন গণমাধ্যম বন্ধের চক্রান্তসহ অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় পর্যায়ক্রমে সামনে আনার ঘোষণা দেন তিনি।
মাহফুজ আলমের এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ এটিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.