ব্রিটিশ রিয়েলিটি শো‘র অন-স্ক্রিন ‘স্বামীদের’ বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৬ ০৩:১৩ (মঙ্গলবার)
ব্রিটিশ রিয়েলিটি শো‘র অন-স্ক্রিন ‘স্বামীদের’ বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

যুক্তরাজ্যের বহুল আলোচিত বিয়েভিত্তিক রিয়েলিটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এসেছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তিন নারী অভিযোগ করেছেন, অন-স্ক্রিন ‘স্বামীদের’ মাধ্যমে তারা যৌন নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে দুই নারী সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন, আরেকজন অভিযোগ করেছেন সম্মতি ছাড়া যৌন আচরণের।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্প্রচারকারী চ্যানেল ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি।

অভিযোগ প্রকাশের পর অনুষ্ঠানটির সব পর্ব সম্প্রচার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানটিতে অপরিচিত নারী-পুরুষকে প্রথম দেখাতেই বিয়ের আয়োজন করা হয়। এরপর তাদের একসঙ্গে থাকা, সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ব্যক্তিগত জীবনযাপনের বিভিন্ন মুহূর্ত ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।

অভিযোগকারী নারীদের একজন, ছদ্মনাম ‘লিজি’, দাবি করেন তার অন-স্ক্রিন স্বামী তাকে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কে বাধ্য করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। তিনি বলেন, “আমি বারবার না বলেছি। কিন্তু সে বলেছিল, ‘তুমি না বলতে পারো না, তুমি আমার স্ত্রী।’”

তার দাবি, ঘটনার পর শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সহায়তা টিমকে দেখানো হয়েছিল। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সে সময় ঘটনাটি “সম্মতির ভিত্তিতে হওয়া রুক্ষ যৌন সম্পর্ক” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

আরেক নারী ‘ক্লোই’ অভিযোগ করেন, ঘুমন্ত অবস্থায় তার শরীরে স্পর্শ করা হয় এবং পরে তার সম্মতি ছাড়াই যৌন সম্পর্ক করা হয়। তিনি বলেন, “আমি শুধু জানালার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমি এটা চাইনি।”

তৃতীয় নারী শোনা ম্যান্ডারসন অভিযোগ করেন, তার অন-স্ক্রিন স্বামী পূর্ব সম্মতি ছাড়াই তার শরীরের ভেতরে বীর্যপাত করেন। পরে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

ঘটনাগুলো সামনে আসার পর যুক্তরাজ্যে রিয়েলিটি অনুষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির সৃজনশীল শিল্পের স্বাধীন মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চেয়ারপারসন ব্যারোনেস হেলেনা কেনেডি বলেন, “এ ধরনের অনুষ্ঠানে উচ্চমাত্রার ঝুঁকি থাকে, কিন্তু সেগুলো সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না।”

নারী অধিকার সংগঠন ‘উইমেন্স এইড’ বলেছে, “লাখো দর্শকের সামনে টেলিভিশনে উপস্থিত থাকলেও নারীরা সহিংসতার শিকার হতে পারেন, এই ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ।”

তবে অভিযুক্ত পুরুষদের আইনজীবীরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, সব সম্পর্কই ছিল পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে।

সম্প্রচারকারী চ্যানেল জানিয়েছে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং বিষয়টি তদন্তে ইতোমধ্যে স্বাধীন পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.