উপসাগরীয় নেতাদের অনুরোধে ইরানে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করলেন ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধের পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাকে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা চলছে এবং এই মুহূর্তে হামলা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত রাখতে চাই। আলোচনা সফল হলে সেটাই হবে সবচেয়ে ভালো পথ। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিরসনে পাকিস্তানও সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। ইসলামাবাদ ওয়াশিংটনের কাছে একটি সংশোধিত ১৪ দফা ইরানি শান্তি প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
তবে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় সীমিত পারমাণবিক কার্যক্রমের বিষয়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিলেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ অর্থ ফেরত এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রশ্নে অচলাবস্থা কাটেনি।
অন্যদিকে তেহরানও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে সরে আসতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে ইরানি কর্মকর্তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখলেও সামরিক চাপের কৌশলও একসঙ্গে বজায় রেখেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.