ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নিজ দলীয় ৭১ এমপির চাপ
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ভরাডুবির পর এবার তার পদত্যাগ বা পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন লেবার পার্টির অন্তত ৭১ জন এমপি। দলটির ভেতরে বিভাজন এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির ভেতরে এখন স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে চরম অস্থিরতা চলছে। এমনকি মন্ত্রিসভার মধ্যেও মতভেদ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদও স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে মন্ত্রিসভার একটি বড় অংশ এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, সরকারে থাকা অবস্থায় নেতৃত্বের লড়াই শুরু হলে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বিবিসির রাজনৈতিক সম্পাদক ক্রিস ম্যাসন বলেছেন, “মঙ্গলবার লেবার সরকারের জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হতে যাচ্ছে।” তিনি জানান, সোমবার রাত পর্যন্ত কয়েকজন মন্ত্রী স্টারমারের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও অন্যরা সরাসরি তাকে পরিস্থিতি বুঝে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ড পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরণের ভরাডুবির পর থেকেই দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে দলটি প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর হারিয়েছে। ওয়েলসে দীর্ঘদিনের আধিপত্যও হারিয়েছে লেবার।
এদিকে লেবার এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্ট প্রথমে স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ আনার হুমকি দিলেও পরে তা থেকে সরে দাঁড়ান। তবে তিনি সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্টারমারের পদত্যাগ চান বলে জানিয়েছেন।
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকটি নাম ঘুরছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। এর মধ্যে সাবেক ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে স্টারমার এখনো পদ ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি। সোমবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, “সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করবো।” তিনি স্বীকার করেছেন যে সরকার কিছু ভুল করেছে, তবে “বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল” বলেও দাবি করেন।
ডাউনিং স্ট্রিট সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। সেখানে স্টারমারের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবার পার্টির ভেতরে এই প্রকাশ্য বিভাজন আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দলটির জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রিফর্ম ইউকের উত্থান এবং কনজারভেটিভদের পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে লেবারের নেতৃত্ব সংকট ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সূত্র: বিবিসি।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.