নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে ‘বড় পরিবর্তনের’ প্রতিশ্রুতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর
স্থানীয় নির্বাচন ও স্কটল্যান্ড-ওয়েলসের ভোটে বড় ধাক্কার পর নিজ দলের ভেতরেই তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখে সোমবার গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে দেশের “বড় চ্যালেঞ্জ” মোকাবিলায় আরও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবেন বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করে প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করেছেন দলটির একাধিক এমপি। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজের নেতৃত্ব নতুনভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন তিনি।
ডাউনিং স্ট্রিট সূত্র জানিয়েছে, সোমবারের ভাষণে স্টারমার যুক্তরাজ্যকে “ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে” ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা তার সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে বলেও তিনি উল্লেখ করবেন।
ভাষণের অংশবিশেষে স্টারমার বলতে যাচ্ছেন, “দেশ যেসব বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তা মোকাবিলায় ছোটখাটো পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। প্রবৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা, ইউরোপ ও জ্বালানি—সব ক্ষেত্রেই আমাদের আরও বড় পদক্ষেপ নিতে হবে।”
এদিকে লেবার এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, স্টারমারের ভাষণে সন্তুষ্ট না হলে তিনি দলীয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারেন। তিনি বলেছেন, আগামী সোমবারের পরও যদি পরিস্থিতির পরিবর্তনের স্পষ্ট রূপরেখা না আসে, তাহলে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের জন্য এমপিদের সমর্থন চাইবেন।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন।
অন্যদিকে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারও স্টারমারের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দল আরও বড় বিপদে পড়বে।
এক বিবৃতিতে রেইনার ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, পরিবারগুলোর খরচ কমানো, স্থানীয় ব্যবসা রক্ষা এবং সরকারি খাতে জনগণের মালিকানা বাড়ানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে পার্লামেন্টে ফেরানোর পক্ষেও মত দেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে ইংল্যান্ডে প্রায় ১,৫০০ কাউন্সিলর হারিয়েছে লেবার পার্টি। ওয়েলসে শত বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য হারিয়েছে দলটি। স্কটল্যান্ডেও দলটির ফলাফল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপগুলোর একটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর এটিই স্টারমারের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট। আগামী কয়েকদিনের পদক্ষেপই নির্ধারণ করতে পারে তিনি নেতৃত্বে টিকে থাকতে পারবেন কি না।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.